মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রেট্রোল অকট্রেন ও ডিজেলের জন্য হাহাকার চলছে। পাম্পগুলোতে বাইকার ও ডিজেল চালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও তেল না পেয়ে কমে গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহন। এছাড়া তেল সংকটের কারনে গ্রামে গ্রামে সেচ চালিত পাম্পে বোরো আবাদ মারাত্বক ভাবে ব্যহৃত হচ্ছে।ফলে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা পরেচেন বিপাকে। আজ শনিবার মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য বাইকার চালক ও ডিজেল চালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
বাইকার চালকদের মধ্যে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা নাটোরের আরিফ হোসেন এবং বগুড়ার ফিরোজ মিয়া বলেন, তারা গাজীপুরের ও ঢাকায় বেসরকারী অফিসে কর্মরত। আগামীকাল রবিবার তাদরে অফিস। মোটর সাইকেলে কিছু তেল জমানো ছিল। সেই তেল দিয়ে কোন রকমে মির্জাপুর পর্যন্ত এসেছেন। সোহাগপাড়া এসে তেল শেষ। একণ তেলের জন্য বাইক নিয়ে যুঁইযুঁথি ফিলিং স্টেশনে দেড় ঘন্টা ধরে লাইনে দাড়িয়ে আছি। তবু তেল পাচ্ছি না। এখণ কি ভাবে গাজীপুর ও ঢাকা যাব এই নিয়ে বিপাকে পরেছি। তাদের মত শতশত বাইকার চালকের একই অবস্থা। ট্রাক চালক আব্দুল মিয়া বলেন, ট্রাক চালিয়ে যে টাকা রোজগার করি তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালাই। তেল (ডিজেল) না পাওয়ায় গত ৬/৭ দিন ধরে ট্রাকে কোন টিপ মারতে পারছি না। পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। বোরো মৌসুমে ওয়ার্শি এলাকার ডিজেল চালিত প্রজেক্টের (সেচের) মালিক কৃষক শামসুল আলম খান অভিযোগ করেন, ডিজেল দিয়ে বোরো আবাদ করি। গত ১৫/২০ দিন ধরে ডিজেল সংকটের কারনে সেচ চালাতে পারছি না। জমিতে বোরো ধানের চারা নষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। কত দিন আর এভাবে চলা যায়। আমরা খুব বিপাকের মধ্যে রয়েছি।
এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের যমুনা সেতুর পুর্বপ্রান্ত থেকে এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল বাইপাস, নগরজলফৈ, করটিয়া, নাটিয়াপাড়া, জামুর্কি, পাকুর্যা, কুরনি, ইচাইল, মির্জাপুর, দেওহাটা, সোহাগপাড়া, বোর্ডঘর, কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়কের দুই পামের পাম্পগুলো অধিকাংশ বন্ধ রয়েছে। দু, একটি পাম্পে অল্প কিছু তেল থাকলেও ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকেও তেল সংগ্রহ করতে পারছে না বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছে।ফলে এই মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বিপাকে পরেছে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা লোকজন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুরউপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তারেক আজিজ বলেন, পাম্পগুলোতে যাতে তেল মজুদ করে কৃত্তিম সংসট সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।







