মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
৩রা এপ্রিল ঢাকার বাইরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন মির্জাপুরে গোড়ান-সাটিয়চড়ায় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে ২৯ জন ইপিআর ও ১৫১ জন বাঙ্গালী শহীদ হন। দেশ স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ঢাকার বাইরে মির্জাপুরে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্থান গোড়ান -সাটিয়াচড়ায় বদ্ধভূমি এবং শহীদদের গণকবর সংরক্ষন হয়নি।
৩রা এপ্্িরল ১৯৭১ স্বাধীনতার প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস স্মৃতি সংসদের সদস্য ও ২ নং জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল ও কমরেড গোলাম সওজব পাওয়ার চৌধুরী জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিপাগল জনতা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বিরোত্তমের নের্তৃত্বে আপামর জনতা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেন। স্থান হিসেবে বেছে নেন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়ান-সাটিয়াচড়া। ২রা এপ্রিল মুক্তিপাগল জনতা জানতে পারেন, পাকসেনারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে গাড়িবহর নিয়ে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে আসছেন। গোড়ান-সাটিয়াচড়া আসামাত্র চার দিক থেকে সাড়াশি আক্রমন শুরু হয়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে ২৯ জন ইপিআর ও সাটিয়াচড়া, পাকুল্যা, গোড়ান, গুণটিয়া, কাটরাসহ আশপাশের গ্রামের ১৫১ জন নারী পুরুষ শহীদ হন। পাকসেনারা হেলিকপ্টার যোগে আক্রমন করে মুক্তিযুদ্ধা, ইপিআর ও নারী পুরুষকে হত্যা করে এবং জালিয়ে পুড়িয়ে দেয় শত-শত ঘরবাড়ি। শহীদদের মধ্যে সুবেদার আব্দুল আজিজ, হাবিলদার আব্দুল খালেক, হাবিলদার খলিলুর, আব্দুল গফুর, মকবুল হোসেন, করটিয়া সরকারী সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক নেতা জুমারত আলীসহ ২৯ জন ইপিআর ও ১৫১ জন শহীদ হন।
এদিকে গোড়ান গ্রামের বাসিন্দা আবুর বাশারসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ঢাকার বাইরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াই-সাটিয়াচড়া নামক স্থানের এই প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্থানে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছরেও বদ্ধভূমি সংরক্ষন ও গণ কবরের স্থান চিহিৃত এবং নির্মান হয়নি চার পাশের বাউন্ডারী। গত কয়েক বছর পুর্বে সাবেক এমপি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী ও টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের সহায়তায় জেলা পরিষদ একটি কমপ্লেক্্র নির্মান এবং শহীদদের নামের তালিকা দিয়ে শুধু একটি স্মৃতি ফলক নির্মান করেছেন। সেই দিনের শহীদদের গণকবরের স্থান ও বদ্যভুমির চার পাশে এখনো নির্মান হয়নি কোন বাউন্ডারী ওয়াল। গণকবরের চারপাশের জমি এখন এলাকার কিছু লোকজন নামে বেনামে দখল করে বাড়িঘর নির্মান করছে। এলাকাবাসি প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্থান ও বদ্যভুমি সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন। এছাড়া ৩ এপ্্িরল ১৯৭১ স্বাধীনতার প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ গোড়ান-সাটিয়াচড়া স্মৃতি সংসদ ও এলাকাবাসী প্রতি বছর দিবসটির স্মরণ করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নবাগত নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব বলেন, ঢাকার বাইরের মির্জাপুরে গোড়ান-সাটিয়াচড়ায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্থানে গণকবর ও বদ্যভুমি চিহিৃতসহ চার পাশের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। শহীদ পরিবারগুলো যাতে যথাযত ভাবে সম্মান ও মর্যাদা পান প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজর দেওয়া হবে।







