মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
সংসারের অভাব অনটন দুরকরনের জন্য ও ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সুদুর পর্তুগাল গিয়ে ১০ দিনের ব্যবধানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে রাম প্রসাদ নামে এক যুবক। তার এই অকাল মৃত্যুকে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবার। ফুটফুটে দুই সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী এখন পাগল প্রায়। পুত্র শোকে বাবা-মা বার বার মুর্ছা যাচ্ছে। নিহত রাম প্রসাদের পিতার নাম নিপেন্দ্র সরকার এবং মাতার নাম অঞ্জুলি রানী সরকার। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সরিষাদাইর গ্রামে।
আজ শুক্রবার রাম প্রসাদের ছোট ভাই শ্যাম প্রসাদ সরকার জানায়, মাত্র ১০ দিন পুর্বে তার ভাই ভাগ্য পরিবর্তনের আমায় জমিজমা বন্ধক রেখে ও ধারদেনা করে বিপুল অংকের টাকা খরচ করে পর্তুগালে যান। পর্তুগাল পৌঁছে তিনি পরিবারের সবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। তার স্ত্রী ও ফুটফুটে দুই সন্তান রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে যাওয়ার পথে পর্তুগাল শহর থেকে একটু দুরে ফারো ও পোর্তিমাও এলাকায় বাংলাদেশীদের বহনকারী একটি প্রাইভেটকার ও ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তার বাই রাম প্রসাদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও ৪-৫ জন। স্থানীয় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ফারো হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার ভাইয়ের লাশ বর্তমানে পর্তুগালের ফারো হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে বলে তার বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পেরেছে।
এদিকে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে এলে এক হুদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। মা-বাবা ও তার স্ত্রী শোকে পাথর হয়ে গেছে। বাবার মৃত্যুর খবর শোনে দুই ছোট শিশু হাউমাউ করে কান্না করছে। তার ভাইয়ের লাশ দেশে আনার জন্য প্রভাসি কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংস্থা, বর্তমান সরকার ও বিদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিকট জোর দাবী জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব বলেন, আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার লাশ যাতে পারিবার নিয়ে আসতে পারেন এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।







