মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আলোচিত ১৪ বছরের কিশোরী নিনমী মেয়ে থেকে ছেলেতে রুপান্তরিত নুরনবী হওয়ার খবর এখন টক অব দা ক্যান্টিতে পরিনত হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে এই ঘটনা দেখতে শতশত লোকজন ভিড় করছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজনদের সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে পরিবারটি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লোকজনের চাপ সামলাতে না পেরে পরিবারটি শেষ পর্যন্ত গাজীপুরের কোনাবাড়িতে এক আত্বীয়ের বাড়িতে সরিয়ে নিয়েছে। আজ শনিবার এলাকাবাসি এ তথ্য জানিয়েছেন। মির্জাপুর উপজেলার দুই নম্বর জামুর্কি ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের আগধল্যা গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।
আজ শনিবার (১৬ মে) আগধল্যা গ্রামে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু-কিশোরসহ ছাত্র-ছাত্রী এবং বিভিন্ন বয়সের শতশত নারী পুরুষ ভিড় করছেন। আগধল্যা গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক আবু মোতালেব মিয়া, কৃষক জাহিদুর রহমান ও মোস্তফা মিয়া জানান, আগধল্যা গ্রামের প্রবাসি বাদশা খলিফার কন্যা নিনমী আক্তার। তারা তিন বোন। ছোট বেলা থেকে সে মেয়ে হিসেবেই আগধল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম ¤্রণেী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। আমরা তাকে মেয়ে হিসেবেই জানি ও চিনি। ৫ম শ্রেনী পাশ করার পর সে দেওহাটা ও সাটিয়াচড়া বালিকা মাদ্রাসায় আবাসিক থেকে আরবী লাইনে লেখাপড়া করেছে। হঠাৎ করে তার শারীরিক গঠন পরিবর্তন দেখে আমরাও হতভাগ হয়েছি। কি ভাবে এমন হলো আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের মনে হয় এটা আল্লাহর কোন কুদরতি। নিনমীর চাচা সোলাইমান খলিফা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে নিনমীর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গ পরিবর্তন আসতে দেখা দেয়। লোকলজ্জার ভয়ে নিনমী মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে আসে। বিষয়টি পারিবারিক ভাবে গোপন রেখে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেন। গত দুই তিন মাস ধরে নিনমী বাড়িতে নিজের ঘরের মধ্যেই থাকতো। দুই দিনের ব্যবধানে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ছেলেদের মত হয়ে যায়। গত বুধবার নিনমীকে বাজারে সেলুনে নিয়ে মাথার চুল ছোট করে কেটে ছেলেদের মত করেন। নিনমী থেকে তার নাম রাখা হয় নুরনবী। নুরনবী এখন পায়জামা, পাঞ্চাবি ও মাথায় টুপি পরে মসজিদে নামাজ পড়তে এবং মাঠে খেলাধুলা করতে যায়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পরলে হৈ-চৈ পরে এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা এবং নুরনবীকে দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত লোকজন নুরববীতে বাড়িতে ভিড় করছে। গত কয়েক দিন ধরে লোকজনদের সামলাতে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। লোকজনকে সামাল দিতে না পেরে গতকাল শুক্রবার বাড়ি থেকে সরিয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে এক আত্বীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে নুরনবীর নানা ইব্রাহিম খলিফা বলেন, ওরা তিন বোন ছিল। এখন একজন ছেলে হয়ে গেল। ওর বাবা বাদশা খলিফা বিদেশে থাকে। নিনমী মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে গেছে এমন খবর তার কাছে যাওয়ার পর সে বলেছে আমাদের ছেলে নেই। এখন ছেলের স্বাত অন্তত পুরন হবে। ওর মা বাবা এবং আমরা সবাই খুঁশি। তাদের একটাই কথা সব কিছুই আল্লাহ করেছেন। তবে নুরনবীর ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে তারা দুঃচিন্তায় পরেছে বলে জানিয়েছেন। ইব্রাহীম খলিফা আরও জানান, ্রপতি দিন শতশত লোকজন বাড়িতে ভিড় করছেন। তাদের সামাল দিতে না পেয়ে নুরনবীকে বাড়ি থেকে সরিয়ে কোনাবাড়িতে এক আত্বীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস এবং উপজেলা সরকজারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর কর্মকর্তা ইজাজুল হকের নেতৃত্বে কয়েকজন সহকারি পরিদর্শক আগধল্যা গ্রামের নিনমীদের (বর্তমান নাম নুরনবী) বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। তারা নুরনবীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে ট্রানজেন্টার হরমোন বা সার্জারি, জন্মগত জৈবিক ক্রমোজোম এবং হরমোন পরিনত জন্মগত ও জৈবিক ভিন্নতা ইন্টার সেকের কারনে সন্তান ছেলে থেকে মেয়েতে এবং মেয়ে থেকে ছেলেতে রুপান্তরিত হতে পারে।







