মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে যৌনহয়রানী,নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে উত্তাল হয়ে উঠেছে। কলেজ কতৃপক্ষ এবং অধ্যক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করায় কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্বক ভাবে ব্যহৃত হচ্ছে। ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে াভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে উত্তপ্ত পরিবেশ।
এলাকাবাসি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নাকে অপসারনের দাবীতে গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) কলেজ সংলগ্ন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সার্বিস লেনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকাবাসি উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষের হাতে যৌন হয়রানীর শিক্ষার কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী, এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে ডাক্তার আব্দুস সালাম ও খন্দকার আহমেদুল হকসহ অনেকেই। তাদের অভিযোগ অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষক ও নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানী, কলেজের অর্থ আত্নসাতসহ নানা অভিযোগ। তাকে কোন অবস্থায় কলেজে যোগদান করতে দেওয়া হবে না।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফ এবং সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নান ২০২৩ সালের ২১ মার্চ কলেজে যোগদান করেন। তিনি পেশায় একজন হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক বলে পরিচয় দেন এবং পাকুল্যা বাজারে তার একটি চেম্বার রয়েছে। তিনি কলেজে যোগদানের পর থেকেই অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কলেজের অর্থ আত্নসাত, নারী শিক্ষক ও নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানীসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের জিম্মি করে ফেলেন। এ নিয়ে হয়রানীর শিকার নারী শিক্ষক ও ছাত্রীরা গত ৮ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন কলেজ গভর্নিং বডির নিকট। কলেজ গভর্নিং বডি এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর গত ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত পর পর তিন বার তাকে শোকজ করা হয়। তারপরও তিনি সংসোধন না হওয়ায় গত ২৫ নভেম্বর কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি খন্দকার রাশেদ আনোয়ার অধ্যক্ষকে বাধ্যতা মুলক ছুটি ও পরে সাময়িক বহিষ্কার করেন। এদিকে বহিষ্কার প্রত্যাহার ও পুর্নবহালের দাবীতে অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিস এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে গত ২ ফেব্রুয়ারী আবেদন করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিস এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাগন ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল এন্ড কলেজে তদন্ত করেন। অধ্যক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড গত ১৩ মে তাকে কলেজে যোগদানের নির্দেশ দেন। বিষয়টি তিনি কলেজের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হায়দারকে জানান। গত ২০ মে তিনি কলেজে যোগাদনের জন্য এলে তোপের মুখে পরেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসির চাপের মুখে তিনি কলেজে যোগদান করতে পারেননি। এ নিয়ে কলেজে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্বক ভাবে ব্যহৃত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অথ্যক্ষকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কারের দাবীতে মানববন্ধন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধের জেরে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ অবনতিসহ মারাত্বক বাবে ব্যহৃত হচ্ছে। ৬শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মো. আব্দুল হান্না তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছিলাম। বোর্ড তদন্ত করে আমাকে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল এন্ড কলেজের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব বলেন, কলেজের দ্ ুপক্ষের মধ্যে দ্বন্ধের জেরে শিক্ষার পরিবেশ বিগ্নিত হচ্ছে। অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা হবে।







