টাঙ্গাইলে দেওদিঘী অবৈধ ভাবে পশুর হাট শনিবার বসানো সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্থগিত

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও সখীপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী দেওদিঘী অবৈধ ভাবে পশুর হাট শনিবার বসানো সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্থগিত করা হয়েছে। এখন থেকে শুক্রবারের পরিবর্তে শনিবার দেওদিঘী পশুর হাট বসানো যাবে না বলে সুপ্রিম কোর্টের বিচাপতি আহমেদ সোহেল ও ফাতেমা আনোয়ার এ আদেশ দিয়েছেন। প্রতি শনিবার কাইতলা সাপ্তাহিক পশুর হাট বসলেও প্রতিপক্ষ এই হার্টের পাশে দেওদিঘী নামক স্থানে বাঁশের হাটে অবৈধ ভাবে গরুর হাট বসিয়েছিল। এতে করে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। একটি চক্র রাস্তা বেরিকেট দিয়ে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান থেকে জোরপুর্বক বেপারি ও বিক্রেতাদের গরু, মহিষ ও ছাগল জোর পুর্বক নামিয়ে দেওদিঘী হাটে নামিয়ে আসছিল। এ নিয়ে কাইতলা হাটের ইজারাদার মাসুদুর রহমান দেওদিঘী অবৈধ হট বন্ধের দাবী জানিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাবে রিট পিটিশন করে ছিলেন। দুইজন বিচারপতি শুনানী শেষে দেওদিঘী পশুর হাট শনিবার বসানো স্থগিত করে রুল জারি করেছেন। হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে এখন থেকে শনিবার দেওদিঘী পশুর হাট বসানো যাবে না বলে আজ শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব ও রিটকারী মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গোড়াই-সখীপুর রোডের পাশে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের কাইতলা বৃহৎ পশুর হাটের অবস্থান। প্রতি বছর সরকার এই হাট ইজারা দিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে আসছে। চলতি বছর এই পশুর হাটের ইজারা দিয়ে সরকার রাজস্ব পেয়েছেন চার কোটি ৮৬ লাখ টাকা। হাটের ইজারার মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, ভাল সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তা থাকায় কাইতলা পশুর হাটে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, সাভার, টঙ্গি, কোনাবাড়ি, ভুয়াপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা বিক্রেতাগন আসেন। চলতি বছর হাটের ইজারা পাওয়া ও রাজস্ব জমা দেওয়ার পর থেকেই এলাকার একটি চক্র কাইতলা পশুর হাটটি ক্ষতি করার জন্য নানা ভাবে ষড়যন্ত্র চালিেেয় যাচ্ছিল। কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে কাইতলা পশূর হাটের পাশেই দেওদিঘী বাঁশের হাটের ইজারাদার সফিক, বাঁশতৈল এলাকার হেলাল, প্রভাসি হানিফ, হেলাল ওরফে মাঠু, মোস্তফা, মালেক ও আলামিনসহ ৪০-৫০ জন ব্যক্তি সিন্ডিকেট করে একই দিনে দেওদিঘী বাঁশের হাটে পশুর হাট বসিয়েছিল। অথচ এই হাট সরকারি ভাবে বসানোর দিন ছিল প্রতি শুক্রবার। হাটের ইজারাদার সফিক ও তার সহযোগিরা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এখানে অবৈধ ভাবে পশুর হাট বসিয়েছিল।
এ ব্যাপারে কাইতলা হাটের ইজারার মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, সরকারি নির্ধারিত প্রায় পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব জমা দিয়ে কাইতলা পশুর হাট ইজারা আনা হলেও দেওদিঘী এলাকা থেকে কাইতলা হাটে পশু আসতে না দেওয়ায় তিনি চরম ভাবে ক্ষতির মুখে পরেছেন। বিষয়টি তিনি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মির্জাপুর উপজেলা ও সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ থানা পুলিশকে জানিয়েছেন। তারপরও দেওগিঘী বাঁশের হাটে প্রতি শনিবার একটি চক্র গোড়াই-সখীপুর রোড বেরিকেট দিয়ে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান থেকে জোর পুর্বক পশু নামিয়ে নিচ্ছেন। এতে করে তিনি চরম ভাকেবক্ষতির সম্মুখিীন হচ্ছেন এবং সরকারও বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবেন।
এদিকে দেওদিঘী অবৈধ পশুর হাট বন্ধ ও স্থগিত চেয়ে ইজারাদার সামুদুর রহমান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্টে বিভাগে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট পিটিশন করেন। রিট পিটিশন নং ৬২৩৬/২০২৬। পক্ষ করা হয় বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যান্যদের। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার গত ১৯ মে শুনানী শেষে রুল জারি করে দেওদিঘী পশুর হাট শনিবার বসানো স্থগিত করে দেন। তিনি ন্যায় বিচার পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। রিট কারীর পক্ষের আইনজীবি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব বলেন, কাইতলা পশুর হাটের ইজারাদার মাসুদুর রহমান বৈধ ভাবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা সরকারী রাজস্ব জমা দিয়ে হাট নিয়েছেন। হাট নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র হলে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে সেই সাথে তিনিও ক্ষতিগ্রস্থ্য হবেন। একই স্থানে এবং একই দিনে পাশাপাশি দুটি পশুর হাট বসানোর কোন নিয়ম নেই। তিনি বাংলাদেশ সপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রিট পিটিশন করেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার দেওদিঘী পশুর হাট শনিবার বসানো স্থগিত করে রুল জারি করেছেন। এখন থেকে দেওদিঢ়ী এলাকায় কোন পশুর হাট বসবে না।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের মাতা জাহিরন নেছার ইন্তোকল

    মির্জাপুরে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *