মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (অনলাইনে) এক কলেজ ছাত্রীর প্রেমের টানে চীনের নাগরিক পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক এখন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থান করছেন। প্রেমিক যুগললদের দেখতে ঐ বাড়িতে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত লোকজন ভিড় করছেন। উৎসুক জনতার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগনও ঘটনা জানতে ঐ বাড়িতে যান। আইনী জটিলতা ও ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের কারনে প্রেমিক যুগলের এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ের পিড়িতে বসা হয়নি। আজ সোমবার মির্জাপুর উপজেলার ২ নম্বর জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডি এ মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ছেলেটি আসলে চীনের নাগরিক কিনা বা অন্য কোন উদ্যেশ্য রয়েছে কিনা উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ তার কাগপত্র, ও পাসপোর্ট যাচাই বাচাই করছেন।
জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের পাকুল্যা পুর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেনের কলেজ পড়–য়া মেয়ে অনিমা আক্তার কলেজের ছাত্রী। পরিবারটি অত্যান্ত দরিদ্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনিমা চীনের রাঙ্গগুই প্রদেশের চীনা নাগরিক ওয়াং ইউলাই এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। প্রেমিক ওয়াং ইউলাই পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক বলে প্রেমিকা অনিমা জানায়। গত ৬ মাসের প্রেমের সম্পর্কে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে প্রেমিকা অনিমাকে বিয়ের ্রপস্তাব দেয়। বিয়ের উদ্যেশে টুরিস্ট্য ভিসায় ঈদের আগে গত ৩০ মে চীন থেকে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের পাকুল্যা পুর্বপাড়া অনিমাদের বাড়িতে চলে আসে। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত লোকজন প্রেমিক যুগলদের দেখতে ঐ বাড়িতে ভিড় জমায়।
এ ব্যাপারে প্রেমিক ওয়াং ইউলাই বলেন, গত ৭ মাস পুর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনিমার সঙ্গে আমার পরিচয় ও প্রেম। আমি অনিমাকে অনেক অনেক ভালবাসি। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন মেনে কানুন মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমি অনিমাকে বিয়ে করে আমার দেশে নিয়ে যেতে চাই।
এ ব্যাপারে প্রেমিকা অনিমা আক্তার বলেন, চীনের নাগরিক ইয়াং ইউলাই আমার প্রেমের প্রস্তাবে সারা দেবে এটা আমি প্রথমে ভাবতেও পারিনি। আস্তে আস্তে সে আমার সব কিছু মেনে নিয়ে আমার বাড়িতে আসতে চায়। পরে আমি তাকে আসতে বলি। ঈদের আগের দিন সে এসেছে। আমি খুবই খুঁশি হয়েছে।
অনিমার বাবা আলী হোসেন বলেন, আমি দরিদ্র। দিনমজুরী করে কোন রকমে সংসার চাইলাই। মেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চীনের নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্ক করেছে এটা আমি পরে জানতে পারি। বিদেশের ব্যাপার। আমি সব কিছু বুঝিনা। মেয়ের কোন সমস্যা হরে আমি পরিবার নিয়ে কোথায় যাব। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছেন। তারা আমাদের ঢেকেছিলেন। তার কাগজপত্র যাচাই বাছাই করছে সে আসলে চীনের সঠিক নাগরিক কিনা। যদি কাড়জপত্র ঠিক থাকে তবে প্রশাসনের সহায়তায় আমরা যুবকের হাতে আমার মেয়েকে তুলে দিব।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চীনের নাগরিক প্রেমিক ওয়াং ইউলাই ও প্রেমিকা অনিমার ও তার পরিবারকে থানায় ঢেকেছিলাম। কাগজপত্র নিয়েছি। যাচাই বাছাই হচ্ছে। ছেলেটি এখন মেয়ের বাড়িতেই রয়েছে।
এদিকে আর আগে গত ৩ মে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চামারি ফতেপুর গ্রামে দুই যুবক নিজেদের চীনের নাগরিক পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমের প্রভাসির বাড়িতে বিয়ে করতে এসেছিল। বিষয়টি এলাকাবাসির সন্দেহ হলে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসানাবাদ করলে এক পর্যায়ে তারা রাতের আধাঁরে পালিয়ে যায়। অপর দিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের টানে এক যুবক নিজেকে চীনের নাগরিক পরিচয় দিয়ে ঘাটাইল উপজেলায় নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের জন্য আসে। বিয়ের পর ছাত্রীর পরিবার জানতে পারেন ঐ যুবক আসলে চীনের নাগরিক নয়। তার বাড়ি পার্বত্য চট্রগ্রামে। পরে সেই বিয়ে ভেঙ্গে যায়।







