মির্জাপুরে ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল এন্ড কলেজর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করে অপসারনের অভিযোগ

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানী, অর্থ আর্থসাত, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে উত্তাল হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী, কলেজ কতৃপক্ষ এবং অধ্যক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করায় কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্বক ভাবে ব্যহৃত হচ্ছে। ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপর দিকে অধ্যক্ষ কাজী মো. আব্দুল হান্নান সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে মব সৃষ্টি করে আমাকে কলেজে যেতে দিচ্ছেন না।আমার উপর হামলা ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি আমি থানা পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত করেছি। গত ছয় মাস ধরে চলছে এই কলেজে অচলাবস্থা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) এলাকাবাসি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নাকে অপসারনের দাবীতে গত ছয় মাস ধরে চলছে কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ। প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসি অংশ নিচ্ছে। অধ্যক্ষের হাতে যৌন হয়রানীর শিক্ষার কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী, এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে ডাক্তার আব্দুস সালাম ও খন্দকার আহমেদুল হকসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে নারী ও নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানী, কলেজের অর্থ আত্নসাতসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাকে কোন অবস্থায় আর কলেজে যোগদান করতে দেওয়া হবে না।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফ এবং সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নান ২০২৩ সালের ২১ মার্চ কলেজে যোগদান করেন। তিনি পেশায় একজন হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক বলে পরিচয় দেন এবং পাকুল্যা বাজারে তার একটি চেম্বার রয়েছে। তিনি কলেজে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কলেজের অর্থ আত্নসাত, এলাকার নারী ও নারী শিক্ষার্থীদের নানা ভাবে যৌন হয়রানীসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের জিম্মি করে ফেলেন। এ নিয়ে কলেজের এক শিক্ষকের স্ত্রী হয়রানীর শিকার নারী গত ৮ নভেম্বর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন কলেজ গভর্নিং বডির নিকট। কলেজ গভর্নিং বডি এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর গত ২৩ নভেম্বর তাকে শোকজ করা হয়। তারপরও তিনি সংসোধন না হওয়ায় গত ২৫ নভেম্বর কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি খন্দকার রাশেদ আনোয়ার অধ্যক্ষকে বাধ্যতা মুলক ছুটি ও পরে সাময়িক বহিষ্কার করেন। এর পর থেকে তিনি আর কলেজে আসতে পারছেন না।
এদিকে বহিষ্কার প্রত্যাহার ও পুর্নবহালের দাবীতে অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হান্নান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিস এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে গত ২ ফেব্রুয়ারী আবেদন করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিস এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাগন ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল এন্ড কলেজে তদন্ত করেন। অধ্যক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড গত ১৩ মে তাকে কলেজে যোগদানের নির্দেশ দেন। বিষয়টি তিনি কলেজের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হায়দারকে জানান। গত ২০ মে তিনি কলেজে যোগাদনের জন্য এলে তোপের মুখে পরেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসির চাপের মুখে তিনি কলেজে যোগদান করতে পারেননি। এ নিয়ে কলেজে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্বক ভাবে ব্যহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি অধ্যক্ষকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কারের দাবীতে মানববন্ধন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধের জেরে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ অবনতিসহ মারাত্বক ভাবে ব্যহৃত হচ্ছে। ফলে কলেজের ৬শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মো. আব্দুল হান্নান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন আমি ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিস ও শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছিলাম। আঞ্চলিক অফিস ও শিক্ষা বোর্ড তদন্ত করে ঘটনা মিথ্যা প্রমান পেয়ে আমাকে কলেজে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি কলেজে যোগদান করতে গেলে কিছু শিক্ষক-কর্মচারী, এলাকাবাসি ও ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে হামলা চালিয়েছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তিনি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবী করেন আমার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করে কলেজে যেতে দিচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল এন্ড কলেজের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব বলেন, কলেজের দ্ ুপক্ষের মধ্যে দ্বন্ধের জেরে শিক্ষার পরিবেশ বিগ্নিত হচ্ছে। দুই পক্ষকে ঢেকে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মেনে সভা আহবান করে অধ্যক্ষকে যোগদানের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বলা হয়েছে। কলেজের শিক্ষার মানউন্নয়নে পরবর্তীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বসে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা হবে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের মাতা জাহিরন নেছার ইন্তোকল

    মির্জাপুরে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *