মির্জাপুরে বংশাই নদীর ভাঙ্গন রোধে এমপি-ইউএনওর সহায়তায় ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ভাঙ্গনের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভাঙ্গনের কবলে পরেছে তিন নং ফতেপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রাম। নদী ভাঙ্গনের শিকার বহু পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, গাছপালা, হাট বাজার, মসজিদ-মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। খবর পেযে আজ শনিবার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, উজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা ১৪ টি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলে বাঙ্গন মোকাবেলা প্রতিরোদের চেষ্টা করেছেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড আব্দুর রউফ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সালাউদ্দিন আরিফ, ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুর রহমান মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল ইসলামসহ বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভুক্তভোগি এলাকাবাসি অভিযোগ করেন, পানি বৃদ্ধির ফলে বংশাই নদীর গোড়াইল, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, কুমারজানি ও বাওয়ার কুমারজানি, ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর, থলপাড়া, হিলড়া আদাবাড়ি, পারদিঘী, চাকলেশ^র, বৈলানপুর, গোড়াইল, গাড়াইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, হাট জাহার ও রাস্তাঘাট ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। নদী ভাঙ্গনে ফতেপুর বাজার সংলগ্ন পাকা রাস্তা বিলিন হয়ে মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে বাসাইল উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন হয়ে গেছে। তীব্র নদী ভাঙ্গনে হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ. হাট ফতেপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, ইউনিয়ন ভুমি অফিস, মির্জাপুর-বাসাইল রাস্তা, ফতেপুর-মহেড়া-মির্জাপুর রাস্তাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান এবং হাট ফতেপুর হাট ও বাজার এখন হুমকির মুখে। এছাড়া ফতেপুর পালপাড়া এলাকার শতাধিক পরিবার নদী ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই ইউনিয়নের ১০-১২ টি গ্রাম এখন মির্জাপুরের মানচিত্র থেকে একবারেই হারিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন।
হিলড়া আদাবাড়ি মোকছেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম মিয়া ও ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা ও ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মানসহ ফতেপুর ইউনিয়নকে রক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসি ইতিপুর্বে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসুচী পালন করেছে। তারপরও স্থায়ী বাঁধ নির্মান হয়নি। বংশাই নদীর ভাঙ্গনের ফলে ফতেপুর, থলপাড়া, বৈল্যানপুর, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটা চাকলেশ^রসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মানের দাবী জানিয়েছে।
অপর দিকে একই অবস্থা দেখা দিয়েছে লৌহজং নদীতে। ভুক্তভোগি একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, ইচাইল, সারুটিয়া, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙ্গনে বহু পরিবার দিশেহারা হয়ে পরেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট, হাট বাজারসহ ফসলি জমি। ৭-৮ টি পাকা ব্রিজ হুমকির মুখে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব বলেন, বংশাই-লৌহজং নদীর আশপাশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপি মহোদয় ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ভাঙ্গন প্রতিরোদের জন্য অন্ত ১৪-১৫ টি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগন ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপি বলেন, প্রতি বছর বর্সা মৌসুম এলেই বংশাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এ বছরও ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরকে অবহিত করেছেন বরাদ্ধ প্রদানের জন্য।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে পিকনিকে এসে বংশাই নদীতে গোসলে নেমে মাদ্রাসার ছাত্র নিখোঁজ

    মির্জাপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালিন অর্থ ও ক্রেস্ট প্রদান

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *