মির্জাপুরে ১৭ ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটা থেকে আজ শুক্রবার দুপুর একটা পর্যন্ত ১৭ ঘন্টার ব্যবধানে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে দুই বন্ধু ও এক জেলেসহ পৃথক ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে এক নারীসহ অন্তত ১০ জন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। নিহতরা হচ্ছে শেরপুর জেলার হাসমত মিয়ার ছেলে জিকুল হোসেন (১৮) রংপুর জেলার সাজ্জাত হোসেন (১৯), টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া মাঝিপাড়া গ্রামের সুশান্ত রাজবংশী (৪৮), গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের রুস্তম আলী (৪৭) এবং জামুর্কি ইউনিয়নের কাটরা গ্রামের জুলহাস মোল্লা (৪৫)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এবং আজ শুক্রবার মর্মান্তিক এ র্ঘটনা ঘটেছে। পৃথক ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যুতে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পরছে এবং তাদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে আসছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন আইনী প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার মির্জাপুর থানা পুলিশ ও এলাকাবাসি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকা থেকে ২৫-৩০ জনের একটি দল (বন্ধুরা) মিলে একটি ইঞ্চিত চালিত স্যালু নৌকা নিয়ে বংশাই নদীতে ঘুরতে এসেছিল। বংশাই নদীর পাশাপাশি তারা মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার জমিদার বাড়ি ঘুরতে যায়। ফতেপুর বাজার ও স্কুলের নদীর ঘাট থেকে ফেরার পথে রাত আটটার দিকে বংশাই নদীর ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া এলাকায় নদীর উপর এলোমেলো ভাবে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নৌকায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে ৬ বন্ধু গুরুতর অহত হয়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে রাতে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকগন পুড়ে যাওয়া আহত জিকুল ও সাজ্জাতকে মৃত্যু ঘোষনা করেন। এক নারীসহ আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশংকা জনক বলে চিকিৎসকগন জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া মাঝিপাড়া গ্রামের সুশান্ত রাজবংশী কয়েকজন মিলে নৌকা নিয়ে বিলে মাছ ধরতে যায়। বিলের মাঝে বিদ্যুতের তারে জরিয়ে সুশান্ত পানিতে ডুবে যায়। তার সহযোগিরা তীরে উঠতে পারলেও সুশান্তকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ শুক্রবার মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্তলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। অপর দিকে আজ শুক্রবার সকালে গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের রুস্তম আলী পাট কাটতে গিয়ে নৌকা নিয়ে আসার পথে নদীতে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ চেষ্টার পর তার লাশ উদ্ধার করেছেন। এদিকে জামুর্কি ইউনিয়নের কাটরা গ্রামের জুলহাস মোল্লার লাশ নদীতে ভেসে থাকতে দেখে স্তানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেছেন। ৫ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মির্জাপুর থানায় পৃথক অভিযোগ হয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পৃথক ঘটনায় ৫ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। পৃথক পৃথক অভিযোগ হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে পিকনিকে এসে বংশাই নদীতে গোসলে নেমে মাদ্রাসার ছাত্র নিখোঁজ

    মির্জাপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালিন অর্থ ও ক্রেস্ট প্রদান

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *