মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা জিহক খান রুদ্র ও তার বাহিনীর অবৈধ দখলে রাখা রাস্তার উপর বাঁশের বেড়া ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে রাস্তার উপর অবৈধ বাঁশের বেড়া ভেঙ্গে দিয়ে রাস্তা মুক্ত করে দেন। ফলে অবরুদ্ধ থেকে অবশেষে মুক্তি পেলেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসি।
এদিকে পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা ও লাঞ্চিত করার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা জিহক খান রুদ্্েরর মামা সাইফুল ইসলাম ভুইয়াকে আটক করেছে পুলিশ। তার পিতার নাম আব্দুল বাছেদ মিয়া। গ্রামের বাড়ি সখীপুর উপজেলার নলুয়া এলাকার বহুরিয়া গ্রামে। তিনি এখন মির্জাপুর থানায় রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।মির্জাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, সরকারের জমি একটি মহল দখলে নিয়েছিল। প্রশাসন থেকে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়ে রাস্তা অবমুক্ত করা হয়েছে। একজন আটক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও সহকারী কমিশনার ভুমি অফিস সুত্র জানায়, জিহক খান রুদ্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী সরকারী খাস রেকর্ডভুক্ত জমি অবৈধ ভাবে দখল করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অবরুদ্ধ এলাকাবাসি গত ২২ ডিসেম্বর মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সমাবেশ এবং তাদের গ্রেফতারের দাবী জানায়। মির্জাপুর উপজেলার ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই-সখীপুর রোড সংলগ্ন সৈয়দপুর এলাকায় এ মানবন্ধনসহ প্রতিবাদ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রেখেছিলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা জিহক খান রুদ্র ও তার বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের শিকার আবুল কাশেম, আরিফ হোসেন, নুর মোহাম্মদ, আব্বাছ মিয়া, শাজাহান মিয়া, নজরুল ইসলাম, আব্দুল আলীম, সুফিয়া বেগম ও আনোয়ারা বেগম প্রমুখ। এ বিষয়ে গতকাল সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দৈনিক ইত্তেফাকে মির্জাপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা রুদ্্র ও তার বাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে মানববন্ধন শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনে তোলপার শুরু হয়। আজ মঙ্গলবার মির্জাপুর সেনা ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর সদস্য, মির্জাপুর থানা পুলিশ এবং দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যগন যৌথ অভিযান চালিয়ে বাঁশের বেড়া ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এ সময় সেনাবাহিনী মেজর ইমরান খান ও দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গিয়াস উদ্দিনসহ বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য ও পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
ভুমি অফিসের কর্মকর্তাগন অভিযোগ করেন, গোড়াই-সখীপুর –ঢাকা রোড সংলগ্ন ৭০ শতাংশ জমি বিদ্যালয় ও সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত। ছাত্রলীগ নেতা জিহক খান রুদ্র, আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার মাস্টারসহ কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদ্যালয় ও সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ২৪ শতাংশ জমি দীর্ঘ দিন ধরে দখল করে পাকা ভবন নির্মান ও রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। রুদ্র খান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী রাতের আধারে রাস্তা দখল করে দোকান নির্মান করছে। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চলাচল করতে না পেরে চরম বিপাকে পরে এলাকাবাসি। গত এক মাস ধরে অবরোদ্ধ বলে জানায়। তাকে বারবার নিষেধ করা সত্তে ও তিনি পাকা ভবন নির্মান থেকে বিরত না হওয়ায় সরকারি জমি রক্ষা ও রাস্তা উদ্ধারের জন্য এলাকাবাসি সহকারি কমিশনার ভুমি অফিস, সেনাবাহিনীর কমান্ডার, ইউএনও অফিস এবং মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী নুর মোহাম্মদ ও স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মী মোশারফ হোসেন প্রতিবাদ জানালে ভুমিদস্যু চক্রটি তাদের নামে মিথ্যা বানোয়াট কয়েকটি অভিযোগ দিয়ে হয়রানী করছেন। উপজেলা প্রশাসন থেকে সহকারী কমিশনার মাসুদর রহমান, সার্ভেয়ার ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি জমি উদ্ধারসহ অবৈধ স্থাপনা বেঙ্গে ফেলার দুই দিন সময় দেন। তারপরও প্রভাবশালী মহল স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলেনি। ফলে যাতায়াত করতে না পেরে চরম বিপাকে পরেছে এলাকাবাসি।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা জিহক খান রুদ্র বলেন, আমরা বিদ্যালয় বা সরকারি খান খতিয়ানভুক্ত কোন জমি দখল ও রাস্তা বন্ধ করিনি। আমাদের জমি ভুলক্রমে সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। আদালতে রেকর্ড সংসোধনের জন্য আবেদন করেছি। তিনি কোন ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত নন দাবী করে বলেন, প্রশাসন অন্যায় ভাবে তাদের জমির উপর থেকে বেড়া ভেঙ্গে দিয়েছে। আমরা আইনের আশ্রয় নিবো।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদুর রহমান বলেন, সৈয়দপুর মৌজায় বিদ্যালয় ও সরকারি ২৪ শতাংশ খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘ দিন জবর দখল করে লোকজনের যাতায়াতের রাস্তাও বন্ধ রেখেছিল। ভুমি অফিস থেকে জমি পরিমাপ করে সাইন বোর্ড নির্মান ও অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত তারা স্থাপনা না ভেঙ্গে না ফেলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়ে জনগনের রাস্তা অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছেন।







