মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় দিগন্ত জুড়ে সরিষা ক্ষেতে হলুদ ফুলের সমারোহ বিরাজ করছে। ভাল ফলাফলে কৃষক স্বপ্ন দেখছেন। দিগন্ত জুড়ে সরিষা ফুলের হলুদের সুভাষ নিতে প্রকৃতি প্রেমিরা ছুটে যাচ্ছে। এ বছল আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সরিষার ভাল ফলনের আশা করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। সরিষার হলুদ ফুলের গন্ধে মৌ-মাছি ছুটে এসে ফুলের রস নিয়ে যাচ্ছে। মৌ-মাছি দিয়ে চলছে মৌয়ালদের খাঁচায় চলছে মধু আহরন। কনেকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মৌয়ালরা সরিষা ক্ষেতের পাশে খাঁচায় (বাক্্র) বসিয়ে মৌ-মাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে যাচ্ছেন। উপজেলার কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে দিগন্ত জুড়ে সরিষা ক্ষেতে হলুদের সমারোহ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) মির্জাপুর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, চলতি বছর ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্য মাত্র ধরা হলেও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উৎপাদন বেশী হয়েছে। সরিষার মধ্যে রয়েছে টরি, মাঘি ও বারি ১৪ ও ১৭ জাতের। শীত মৌসুমে মির্জাপুর উপজেলার দিগন্ত জুড়ে সরিষা ফলের সমারোহ বিরাজ করছে। যে দিকে দুচোখ যায়, কেবল সরিষা ফলের হলুদ রংয়ে মন ভরে যায়। প্রকৃতি প্রেমিরা সরিষা ফুলের হলুদ গন্ধ নিতে সকাল, দুপুর ও বিকেলে ছুটে যাচ্ছেন দিগন্ত জুড়ে সরিষা ক্ষেতের পাশে। আবার সরিষার কচি পাতা সবজি হিসেবে, পেকে গেলে বীজ তেলে তেল হয় এবং ডালপালা জালানি হেসে ব্যবহার হয়।
এদিকে সরিষা ক্ষেতের আশপাশে মৌয়ালরা খাঁচা বসিয়ে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে যাচ্ছেন। উপজেলার পৌরসভা, ভাওড়া, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, বানাইল, আনাইতারা, বহুরিয়া, ফতেপুর, জামুর্কি ও লতিফপুর ইউনিয়নের দিগন্ত জুড়ে সরিষা ক্ষেতে মৌয়ালরা সারি সারি বাক্্র বসিয়ে মধু সংগ্র করছেন। মৌয়ালরা জানিয়েছেন, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ বাক্্র বসিয়ে মধু সংগ্রহ করে থাকেন। সরিষা ক্ষেতের মধু ভাল মানের। প্রতি কেজি মধু বিক্রি করেন ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা। লাভ মোটামুটি ভাল হয়। তবে এ বছর কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার কারনে তাদের মধু আহরনে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহমুদা খানম বলেন, মির্জাপুর উপজেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্য মাত্র ধরা হলেও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন ও উৎপাদন দুটিই ভাল হবে বলে আশা করছেন। সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষ্কদের সার বীজসহ বিভিন্ন উপকরন বিনামুল্যে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরিষা ক্ষেতের আশপাশে মৌয়ালদের খাঁচায় মধু আহরন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।







