মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারী বনাঞ্চলের আশপাশে দখল হওয়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় সোয়া কোটি টাকা মুল্যের এক হেক্টর জমি উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। বনবিভাগের কর্মকর্তাদের সহায়তায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের নির্দেশে দখল হওয়া সরকারি বনাঞ্চলের এক হেক্টর জমি উদ্ধার করে ৯ টি অবৈধ স্থাপনা ((ঘরবাড়ি) ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের আজগানা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে বনবিভাগের বাঁশতৈল রেঞ্জ অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহিদুর রহমান আজ শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) জানিয়েছেন। অভিযানের সময় বন বিভাগ মির্জাপুর রেঞ্জ অফিসের রেঞ্জ অফিসার মো.শাহিনুর রহমান, টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন সংরক্ষক ড. আবু নাসের মহসীন, সহকারী বন সংরক্ষক আবু সালেহ, মির্জাপুর থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার একর সরকারী বন ভুমি রয়েছে। বনবিভাগের মতে তাদের দখলে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার একর। অবশিষ্ট ৮ হাজার একর সরকারি বনভুমি অবৈধ দখলে। বিশাল এই বন ভুমিতে গজারি, গর্জন, সেগুন, আকাশমনি, পিকরাশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মুল্যবান গাছ রয়েছে। এছাড়া সমাজিক বনায়ন কর্মসুচীর আওতায় বনাঞ্চল ও এর আশাপাশে প্রচুর বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে।
আজগানা, বাঁশতৈল ও তরফপুর ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সরকারী বিধান মতে বনাঞ্চলের আশপাশের ১০ কি. মি. এর মধ্যে ইটভাটা, করাত কল এবং কয়লা তৈরীর চুল্লি স্থাপন নিষিদ্ধ ও দন্ডনীয় অপরাধ। স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের যোগসাজসে সিন্ডিকেট করেই চলছে বনাঝঅচলের দখলের প্রতিযোগিতা। দীর্ঘ দিন ধরে চলছে দখলের এ প্রতিযোগিতা। এছাড়া কাঠ পুড়িয়ে চুল্লিতে কয়লা তৈরীর অবৈধ ব্যবসা। এলাকার পরিবেশ মারাত্বক ভাবে হুমকির মুখে পরেছে। চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের গায়রাবেতিল, তালতলা, মুচির পুকুরপাড়, নয়াপাড়া, পেকুয়া, মুচিরচালা, বাঁশতৈল, বংশীনগর, বালিয়াজান, আজগানা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া, পাথরঘাটা, খুইদারচালা, ঘাগড়াই কুড়াতলী ও খাটিয়ার হাট, তরফপুর ইউনিয়নের টাকিয়া কদমা, পাথরঘাটা ও লতিফপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বনের আশপাশে অবৈধ ভাবে ঘরবাড়ি নির্মান করে সরকারের বিপুল পরিমান সম্পত্তি নিজেদের দখলে নিয়েছে। এছাড়া বনের কাঠ পুড়িয়ে কয়লার চুল্লিতে কয়লা তৈরী করে আসছে। কয়লা তৈরীর ফলে বিষাক্ত কাল ধোয়ায় ঐ সব এলাকায় বসবাস করা হুমকির মুখে। এতে করে বনজ সম্পদ ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয় নেমে এসেছে এবং আশপাশের গ্রামের গাছপালা ও ফসলি জমি নষ্ট হয়ে লোকজনের মধ্যে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পরেছে।
এ ব্যাপারে বন বিভাগ মির্জাপুর রেঞ্জ অফিসের রেঞ্জ অফিসার মো.শাহিনুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন সংরক্ষক ড. আবু নাসের মহসীন, সহকারী বন সংরক্ষক আবু সালেহ, মির্জাপুর থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের নির্দেশনায় হাটুভাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি বনাঞ্চলের প্রায় এক হেক্টর জমি উদ্ধার করে ৯ টি অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত জমির মুল্য প্রায় সোয়া কোটি টাকা। এর আগে গায়রাবেতিল, নয়াপাড়া, বাঁশতৈল, বংশীনগর, আজগানা, কুড়িপাড়া, পাথরঘাটা, তরফপুর ও খাটিয়ারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ বেশ কিছু অবৈধ কয়লার চুল্লি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারি বন রক্ষার জন্য তাদের এ অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মাসুদুর রহমান বলেন, বনাঞ্চলের ভিতরে ও আশপাশে অবৈধ ভাবে দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার এবং অভৈধ স্তাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে মোবাইল টিমের মাধ্যমে কয়লা তৈরীর অবৈধ চুল্লি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বনাঞ্চল রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কোন অবস্থায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।







