মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৭ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ইট পোড়ানোর চিমনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছেন প্রশাসন। অবৈধ ইট ভাটা টিকিয়ে রাখতে ইটভাটা মারিক সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের নামে ৭০ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করেছেন বলে াভিযোগ উঠেছে। তারপরও শেষ রক্ষা হলো না। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এক ইট ভাটার মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আজ সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ অভিযান পারিচালিত হয়। উপজেলার গোড়াই ও বহুরিয়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে বাটা ব্রিকস, নিউ সরকার ব্রিকস, হক ব্রিকস, নিউ রমিজ ব্রিকস, বি এন্ড বি ব্রিকস, সান ব্রিকস এবং রান ব্রিকস নামের এই ৭ অবৈধ ইটভাটা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। অভিযান পরিচালনা করেন মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্্িরকিউটিপ ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম আরিফুল ইসলাম। এ সময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, টাঙ্গাইল জেলা পরিবৈশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিঞা মাহমুদুল হক, সহকারী পরিচালক সজীব কুমার ঘোষ, পদির্শক বিপ্লব কুমার সুত্রধরসহ পুলিশ ও সেনাবাহির সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা ভুমি অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ৭ ইউনিয়নে শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটার ফরে এলাকার ফসলি জমি, গাছপালাসহ পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। আবার এদের মধ্যে অধিকাংশ ইট ভাটার নেই বেধ কাগজপত্র। প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম ব্যবহার করে এসব ইটভাটা পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ রাখার জন্য গত ১২ ডিসেম্বর যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে ২৪ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করে ভাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন যৌথ বাহিনীর সদস্যসহ পরিবেশ াধিদপ্তর। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ইটভাটার মালিকরা ভাটা চালু রাখেন। খবর পেয়ে গত ৯ জানুয়ারি আবার অভিযান চালিয়ে এই ৭ অবৈধ ইটাভার ইট পোড়ানোর চিমনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে অবৈধ ইটভাটা টিকিয়ে রাখতে, পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের নামে সম্প্রতি ৭০ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করেন ইটভাটা মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। এ নিয়ে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারপরও শেষ রক্ষা হলো না। প্রশাসন ঘটনা টের পেয়ে আজ সোমবার আবার অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ইটভাটাগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ইট ভাটা মালিক সমিতির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি চক্র ভাটা মালিকদের নিকট থেকে টাকা (চাঁদা) উত্তোলনের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে প্রশাসনকে ব্রিবত করছেন। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্্িরকিউটিপ ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম আরিফুল ইসলাম বলেন, কোন অবস্থায় অবৈধ ইট ভাটায় ইট পোড়ানো দেওয়া হবে না। পর পর কয়েক বার অভিযান চালানো হয়েছে। তারা প্রশাসনের নির্দেশ তারা মানছেন না। ভাটা মালিকরা যতই শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর হন কেন অবৈধ ইট ভাটা চালু করতে দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্তা নেওয়া হবে।







