মির্জাপুরে মান্দাই আদিবাসি পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী আত্নকল্যাণ সংস্থা

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ও আজাগানা ইউনিয়নের অবহেলিত পাহাড়ি এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত মান্দাই ও কুচ সম্প্রদায় উপজাতি অসহায় আদিবাসি পরিবার যুগ যুগ ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। হতদরিদ্র মান্দাই কুচ সম্প্রদায় উপজাতি আদিবাসি পরিবারগুলো সরকারি নানা সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হলেও অবশেষে তাদের পাশে এসে দাড়িয়েছে সেবরকারী স্বেচ্ছা সেবী সংগঠন আত্নকল্যাণ সংস্থা। সংঘঠনটি ঘরে ঘরে পাকা টয়লেট নির্মান করে দিচ্ছে। মির্জাপুর উপজেলার ১৩ নম্বর বাঁশতৈল ও ১১ নম্বর আজগানা ইউনিয়নের অবহেলিত পাহাড়ি নির্ভৃত অঞ্চলে এসব ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টি আদিবাসিদের বাড়ি। মির্জাপুর উপজেলা আদিবাসি উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি সুনিল সারতী বর্মন জানিয়েছেন, হতদরিদ্র মান্দাই উপজাতি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টি আদিবাসি পরিবারগুলো যুগ যুগ ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১৩ নম্বর বাঁশতৈল ইউনিয়নের পেকুয়া, বংশীনগর, তালতলা, কাইতলা, গায়রাবেতিল, চানু মার্কেট, মোতারচালা, পুকুরপার, বটতলা এবং ১১ নম্বর আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা ও খাটিয়রঘাট, আজগানাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ সহস্রাধিক ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টি আদিবাসি পরিবার বাস করেন। এদেরকে বর্মন, মান্দাই ও কুচ সম্প্রদায় বলা হয়। এসব ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টি পরিবারের মুল পেশা দিনমজুরী ও কৃষি কাজ। তারা খূবই পরিশ্রমী। শিক্ষা ধিক্ষায় উন্নত না হলেও কোন রকম জীবন যাপন করে আসছে এসব পরিবারগুলো। গায়রাবেতিল গ্রামের সুনিল বর্মন (৪৫), স্বর্নমনি বর্মন (৩৫) এবং বটতল গ্রামের বিরেশ চন্দ্র কোচ (৫০) অভিযোগ করেন, পাহাড়ি অবহেলিত লাল মাটির ঘরে তাদের বসবাস। কারও নিজস্ব জমি তেমন নেই। পাহাড়ি সরকারী খাস জমিত বসবাস করেন। মাটির ঘর থাকলেও বিদ্যু, পাকা টয়লেট নেই। খোলা জায়গায় তাদের মলত্যাগ করতে হয়। কৃষি ও দিনমজুর কাজ করে তাদের জীবন চলে। এলাকায় ভাল জনপ্রতিনিধি না থাকায় তাদের সুযোগ সুবিধা ও জীবন মান উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন এনজিও এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। কোন দিন খেয়ে আবার কোন দিন না খেয়েই চলে তাদের জীবন। সম্প্রতি মির্জাপুর উপজেলার আত্ন-কল্যাণ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাড়ি বাড়ি পাকা টয়লেট নির্মানের ব্যবস।তা করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল দেওয়ান বলেন, তার ইউনিয়নে মান্দাই ও কাচ সম্প্রদায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টি আদিবাসি পরিবারগুলো খুবই দরিদ্র। প্রশাসন থেকেও তাদের চাহিদা মত সহযোগিতা পাচ্ছে না। ফলে আদিবাসি পরিবারগুলো মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছে। পরিবারগুলো যাতে সরকারী ও ব্যক্তি পর্যায়ে সহযোগিতা পায় সে জন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক এ বি এম আরিফুল ইসলাম বলেন, মান্দাই ও কুচ সম্প্রদায় উপজাতি আদিবাসি পরিবারগুলো অত্যান্ত সহজ সরল। উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, সমাজ সেবা অধিদপ্তর, প্রাণী সম্পদ বিভাগ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও সমবায় অধিদপ্তরসহ সরকারী ভাবে যখনই কোন বরাদ্ধ আসে তাদের সহযোগিতা দেওয়া হয়। এছাড়া আদিবাসিদের বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্নকর্মসংস্থানের আওতায় আনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তারা যাতে আরও সুযোগ সুবিধা পায় সে জন্য প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী আত্নকর‌্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অমলেস চন্দ্র সরকার বলেন, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে জেলা এনজিও বিষয়ক মাসিক সমন্ময় কমিটির সভায় এবং মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশক্রমে মির্জাপুর উপজেরার পাহাড়ি এলাকায় হতদরিদ্র মান্দাই ও কুচ সম্প্রদায় উপজাতি আদিবাসি পরিবারের ঘরে ঘরে বিনামুল্যে একটি করে পাকা টয়লেট নির্মান করে দেওয়া হচ্ছে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে মেধা-বিজ্ঞান-উদ্বাভনী প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ

    মির্জাপুরে প্রধান শিক্ষকের মাতার মৃত্যুতে শোকসভা

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *