নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশ থেকে স্বামীর পাঠানো ৬০ লক্ষাধিক টাকা ও বিপুল পরিমান স্বর্নালংকারসহ টুটুল মিয়া নামে প্রবাসির স্ত্রী সালমা আক্তার এক সন্তানসহ প্রেমিক আব্দুল কাদের নামে যুবকের সঙ্গে উদাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর পুর্বের স্বামী টুটুল মিয়ার পরিবার শিশু পুত্র সালমান, তার স্ত্রী সালমা আক্তারসহ চুরি করে নেওয়া টাকা ও স্বর্নালংকার উদ্ধারের জন্য থানায় মামলা করেছেন। মামলা হওয়ার ২৯ দিনেও পুলিশ তাদের কোন হদিস করতে পারেনি। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্ত্রী ও পুত্রকে পাওয়ার আশায় টুটুল মিয়া বিদেশ থেকে দেশে ফিরে তাদের উদ্ধারের জন্য পুলিশের দ্ধারে দ্ধারে ঘুরছেন বলে আজ শুক্রবার (১১ এপ্রিল) অভিযোগ করেছেন।
আজ শুক্রবার টুটুল মিয়া জানায় তার পিতার নাম আহম্মদ আলী। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নরদানা গ্রামে। প্রায় ১০ বছর পুর্বে একই উপজেলার মহদীনগর গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের কন্যা সালমা আক্তারের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের এক পুত্র সন্তান হয়। পুত্রের বয়স এখন ৫ বছর। নাম সালমান। পরিবারের খরচ যোগাতে স্ত্রী পুত্রকে বাড়িতে রেখে তিনি সৌদি আরবে চলে যান। বিদেশ থেকে এ পর্যন্ত তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ও মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রায়৬০ লাখ টাকা পাঠান। এছাড়া বিপুল পরিমান স্বর্নালংকারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাঠান। তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রী সালমা আক্তার নরদানা গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে বখাটে আব্দুল কাদের মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিদেশ থেকে পাঠানো তার সমস্ত টাকা ও স্বর্নালংকার নিয়ে স্ত্রী সালমা আক্তার শ^শুর ছানোয়ার হোসেন, শ^াশুরী লাখী বেগম ও শালক ইমনের সহযোগিতায় শ^শুর বাড়িতে পাকা ঘর, জমি ক্রয় ও শালককে প্রায় ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে আনসার ব্যাটালিয়ানে চাকুরী দেন। একই ভাবে তার পাঠানো টাকা দিয়ে প্রেমিক আব্দুল কাদের মিয়ার বাড়িতে পাকা ঘরসহ তাকে বরাটী বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে দেন। কৌশলে তার জমানো সব টাকা নেওয়া শেষ হলে ৫ বছরের পুত্র সন্তান সালমানকে নিয়ে গত ১৮ মার্চ সালমা আক্তার প্রেমিক আব্দুল কাদেরকে নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি বিদেশ থাকায় তার বোন তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে উল্লেখিত অভিযুক্তদের আসামী করে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ২৯ দিন পার হলেও পুলিশ তার স্ত্রী সালমা আক্তার, ৫ বছরের শিশুপুত্র সালমানকে উদ্ধার করতে পারেনি। এছাড়া প্রেমিক প্রতারক আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার হয়নি। উদ্ধার হয়নি চুরি করে নিয়ে যাওয়া ৬০ লক্ষাধিক টাকাসহ স্বর্নালংকার। স্ত্রী ও পুত্রকে হারিয়ে এবং তার টাকার শোকে তিনি এখন পথের বিখারীর মত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। স্ত্রী ও শিশু পুত্রকে উদ্ধার ও প্রেমিক অব্দুল কাদেরকে গ্রেফতারসহ পুলিশের কাছে তিনি ন্যায় বিচার দাবী করেছেন।
এ ব্যাপারে নরদানা গ্রামের অন্তত ১০ জন নারী পুরুষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, টুটুল মিয়ার বিদেশ থেকে পাঠানো প্রায় ৬০ লক্ষাধিক টাকা ও বিপুল পরিমান স্বনালংকারসহ ৫ বছরের শিশু পুত্রকে নিয়ে টুটুল মিয়ার স্ত্রী সালমা আক্তার প্রেমিক আব্দুল কাদেরের সঙ্গে উদাও হয়ে গেছে। ঘটনার প্রায় এক মাস পার হলেও তাদের কোন হদিস মিলছে না।
মামলার বাদী তাসলিমা আক্তার বলেন, আমার ভাই বিদেশ থাকায় আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। আমার ভাইয়ের প্রায় ৬০ লাখ টাকা, বিপুর পরিমান স্বর্নারংকার ও ৫ বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে তার স্ত্রী সালমা আক্তার প্রেমিক আব্দুর কাদেরের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। স্ত্রী ও শিশু পুত্রের শোকে ভাই এখন দেশে এসেছে।আমরা পুলিশের কাছে ন্যায় বিচার দাবী করছি।
এ ব্যাপারে পালিয়ে যাওয়া প্রেমিক আব্দুল কাদের ও প্রেমিকা এক সন্তানের জননী সালমা আক্তারের মোবাইলে ফোন করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, থানায় অভিযোগ হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের উদ্ধারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।







