মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্দ্য কাওয়ালজানি খাদেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে মাটি ভরাট করছে একটি চক্র। মাঠ রক্ষাসহ অবৈধ দখলমুক্ত করতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। এ নিয়ে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও অবৈধ দখলকারীদের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন খেলার মাঠ রক্ষাসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে। খেলার মাঠ রক্ষার জন্য গতকাল বৃৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের মাঠে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও এলাকাবাসি জানায়, ১৯৯৯ সালে বন্দ্য কাওয়ালজানী গ্রামের কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ১৯০ শতাংশ আবাদী জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রামের শিক্ষানুরাগী বেরাহান উদ্দিন ও আজিজুল হক ১৬২ শতাংশ ও ওয়াজেদ আলী ২৮ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দেন। বোরাহান উদ্দিন ও আজিজুল হক ১০৮ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি মূলে এবং বাকি জমি মৌখিকভাবে দান করেন। এরমধ্যে গ্রামের আছর উদ্দিনের দুই ছেলে রকমান ও লোকমান হোসেনের ৪৩ শতাংশ আবাদী জমিও রয়েছে। রকমানের সাড়ে ২১ শতাংশ জমি বোরহান ও আজিজুল দলিল মূলে মালিক হয়ে বিদ্যালয়কে দান করেন। লোকমান হোসেন তার জমি বিক্রি না করে তার বাড়ির পাশে তখনকার মূল্যবান জমি বিনিময়ে বোরহান ও আজিজুল হকের পরিবারের কাছে দাবি করেন। তার দাবির প্রেক্ষিতে গ্রামের লোকজন বিদ্যালয়ের স্বার্থে বোরহান ও আজিজুল হকের পরিবারকে বুঝিয়ে ওই জমি দেন। লোকমান হোসেন বিনিময়ে পাওয়া ওই জমি গ্রামের শহীদ মিয়া নামে এক কৃষকের কাছে ১০ হাজার টাকায় বন্ধক দেন। শহীদ মিয়া ৮ বছর আবাদ করার পর লোকমান হোসেন ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করে ওই জমি তার দখলে নেন। দুই যুগ পর ইতালি প্রবাসী লোকমান হোসেন রমজান মাসে দেশে ফিরেন এবং বিদ্যালয়ের মাঠের জমি পরিমাপ করে খুঁটি পুতে তার নিজের জমি দাবি করেন। গত বুধবার রাতের আধারে লোকমান হোসেন বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাট শুরু করেন। গতকাল (১০ এপ্রিল) বৃৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। মাটি ভরাটের প্রতিবাদে দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, মাঠ দখল হলে খেলাধূলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা বিদ্যালয়ের মাঠ দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রাক্তন শিক্ষক আজিজ মিয়া বলেন, অনেক কষ্ট করে আবাদী জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দুই যুগ আগে জমির মালিকরা ঠিকমত আবাদ করেননি। বিনিময়ে জমি নিয়ে বিদ্যালয় হওয়ার পর পাকা রাস্তা হয়েছে। এখন জমির মূল্য বাড়ায় জমির দাবিদার বের হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেউ জমি দাবি করেননি। সরকারের পক্ষ থেকে চারতলা বিশিষ্ট দুটি আধুনিক ভবন হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের সামনের বিশাল মাঠটিও মাটি ভরাট করে দেয়া হয়েছে। এখন গ্রামের লোকমান হোসেন নামে এক ব্যক্তি মাঠের সামনে সাড়ে ২১ শতাংশ জমি নিজের দাবি করে রাতের আধারে মাটি ভরাট শুরু করেছেন। বিষয়টি তিনি বিদ্যালয়পরিচালনা কমিটির সবাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে জানিয়েছেন। মাঠটি রক্ষার জন্য তিনি জোর দাবী জানান
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের মাঠের জমির দাবিদার ইতালী প্রবাসী (বর্তমানে ছুটিতে দেশে আসা) মো. লোকমান হোসেনের ব্যবহৃত( ০১৭১২-৭২৯১৫৭) মুঠোফোনে বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের কথা জানতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিফ করেননি। এরপর ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। তার পরও কোন সারা পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আরিফুল ইসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়টি আইনী ব্যাপবার ও জটিলতা রয়েছে। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিসহ উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







