মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে গত পাঁচ মাসে প্রশাসনের অভিযানে ৮০ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হকের দিক নির্দেশনায় গত ডিসেম্বর থেকে আজ ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার পর্যন্ত এই পাঁচ মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্্িরউিটভি ম্যাজিস্ট্রে এ বি এম আরিফুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদুর রহমান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিপুল পরিমান অর্থ অর্থদন্ড প্রদান করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভিন্ন এলাকায় ২৩ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩২ মামলায় ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছেন। অপর দিকে এসিল্যান্ড বিভিন্ন এলাকায় ২৫ টি মোবাইল কোট পরিচালনা করে ৪৩ মামলায় ৪২ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছেন। অবৈধ মাটি চুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট আরও কঠোর ভাবে পরিচালনা হবে বলে এই দুই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন
আজ মির্জাপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোদালিয়া, গোড়াইমইননগর, সৈয়দপুর ও গোড়াই পালপাড়া এলাকার আশপাাশে ভ্যেকু দিয়ে চলছে মাটি চুরি। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, আজগানা, লতিফপুর, তরফপুর ও বাঁশতৈল এই পাঁচ ইউনিয়নে পাহাড়ি টিলার লাল মাটি অবৈধ ভাবে চুরি করে কেটে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। ফলে পাহাড়ি এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি এলাকার রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একই ভাবে মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া ও বহুরিয়া ইউনিয়নের তিন ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে চক্রটি। ড্রাম ট্রাক রাস্তার উপর দিয়ে নেওয়ার ফলে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে তেমনি ব্রিজ কালভার্ট ক্ষতি হচ্ছে। ড্রাম ট্রাক চলায় ধূলোবালিতে আশপাশের ঘরবাড়িতে বসবাস করা অনুপযোগি হয়ে উঠেছে। এক দিকে পরিবেশ যেমন হুমকির মুখে পড়েছে। প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ফসলি জমির উপর দিয়ে জোর পুর্বক রাস্তা নির্মান করে দিনে রাতে ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি বহন করছে। কোন কৃষক বাঁধা দিলে তাদের নানা ভাবে মামলা ও পুলিশের গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এদিকে এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ভাবে মাটি কাটা ও মাটি চুরি বন্ধে অভিযানে নামের উপজেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্্িরকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম আরফিুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদুর রহমান বলেন, আজ মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত ৩৮ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৭৮ মামলায় ৮০ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে অভিযান আরও কঠোর ভাবে পরিচালনা করা হবে বলে এই দুই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।







