মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাঁশতৈল ইউনিয়নের সোনালিয়া চকবাজার গ্রামে ছাগল কান্ডে এক আসামীর বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে উপজলার বাশতৈল ইউনিয়নের গায়রাবেতিল গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,গায়রাবেতিল গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে নাঈম হোসেন (২৫), একই গ্রামের মৃত রক্ষার ছেলে সবুজ (৫০) এবং মৃত ঝইড়ার ছেলে বাবুল (৪০)। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) মির্জাপুর পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার বাশতৈল ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের কলা বাগানে তারই চাচা আকবর আলীর ছাগল যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুইজনের মধ্যে বাকবিত-া হয়। বাকবিত-ার একপর্যায়ে হামলার শিকার হন আকবর আলী (৬৫)। মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। শনিবার ওই ঘটনায় গিয়াস উদ্দিনসহ ৫ জনের নামে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের হয় এবং ওই রাতেই দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক রাশেদুজ্জামান।
সোমবার বিকেলে বাঁশতৈল ইউনিয়নের সোনালিয়া চকবাজার গ্রামে গিয়াস উদ্দিনসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধন শেষে উত্তেজিত জনতার একটি অংশ গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে হামলা ও অগ্নি সংযোগ করে। অগ্নি সংযোগের সময় ওই বাড়ির নারী ও কয়েকজন শিশু অবস্থান করছিলেন। তবে তারা নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিক্ষুব্দ জনতার আগুনে গিয়াস উদ্দিনের বাড়ির দুইটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী রাতেই ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন। এই ঘটনার সোমবার রাতেই গিয়াস উদ্দিনের পুত্রবধু জাকিয়া আক্তার বাদী হয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ গায়রাবেতিল থেকে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি মোশারফ হোসেন বলেন, আসামীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ঘটনাস্তল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছ্।ে বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত রয়েছে।







