মির্জাপুরে কাইতলা গরুর হাটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী মোতায়েন

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাঁশতৈল ইউনিয়নের কাইতলা বৃহৎ গরুর হাটের ইজারা ও টোল আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হকের নির্দেশে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম হাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের সার্বিক নিরাপত্তায় যৌথবাহিনী মোতায়েন করেন। এ সময় মির্জাপুর উপলো সহকারী কমিশনার ও এক্্িরকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও এক্্িরকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন কবির, মির্জাপুর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর ফাহিম, দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিনসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং সেনা সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আজ শনিবার (১৯ এপ্রিল) মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় সুত্র জানায়, সরকারী নিয়ম অনুসারে বাংলা ১৪৩২ সনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ভ্যাট ও ট্যাক্্রসহ পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কাইতলা গরুর হাট ইজারা দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পান বেলতৈল গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান। গত বছরের বাংলা ১৪৩১ সনের ইজারাদার হেলাল উদ্দিন কাইতলা হাটের ইজারা ও টোল আদায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। হাইকোর্ট ৬ মাসের জন্য স্থিতিঅবস্থা দেন। স্থিতিঅ বস্থা বাতিল চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফসার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও টাঙ্গাইল জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত জিপির মতমত নিয়ে গত ২৪ মার্চ দরপত্র উন্মুক্ত করে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাসুদুর রহমানকে কাইতলা গরুর হাট টোল আদায়ের জন্য বুঝিয়ে দেন।
এদিকে পুর্বের ইজারাদার হেলাল উদ্দিন ন্যায় বিচার ও হাটের ইজারা বাতিল চেয়ে পুনরায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা-১ এ অভিযোগ করেন। গত ১৫ এপ্রিল উক্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হেলেনা পারভীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কাগপত্র দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। হাটের ইজারাদার দুই পক্ষ নিজেদের বৈধ দাবী করলে এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ শনিবার ছিল সাপ্তাহিক কাইতলা গরুর হাট। সংঘর্ষ ওপরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন হাটে নর্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী নিয়োগ করেন।
এ ব্যাপারে হেলাল উদ্দিন বলেন, গত বছর কাইতলা গরুর হাটটি ইজারা নিয়ে আমি ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছি। ৬ মাসের স্থিতিবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছি। রিট পিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়ায় পর্যন্ত এই হাট নতুন করে ইজারা দেওয়া যাবে না। প্রশাসন আমার উপর অবিচার করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে বর্তমান ইজারাদার মাসুদুর রহমান বলেন, সরকারী নিয়ম কানুন মেনেই আমি কাইতলা হাটের ইজারা নিয়েছি এবং সরকারী কোষাগারে পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকা ও ভ্যাট ট্যাক্্র জমা দিয়েছি। স্থানীয় কিছু লোকজন টোল আদায়ে বাঁধার সৃষ্টি করছে। বিষয়টি আমি প্রশাসনকে লিখিত আকারে জানিয়েছি। প্রশাসন আমাকে টোল আদায় করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম বলেন, কাইতলা গরুর হাটের ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে কোন প্রকার অনিয়ম করা হয়নি। সরকারি সকল নিয়ম কানুন মেনেই সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং নতুন ইজারাদার মাসুদুর রহমানকে টোল আদায়ের জন্য হাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের মাতা জাহিরন নেছার ইন্তোকল

    মির্জাপুরে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *