মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গুলি করে মহিষ ব্যবসায়ীর ৭৮ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় নগদ টাকা, মোটর সাইকেল, মাইক্রোবাস ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ আন্তজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন। গ্রেপ্তারকৃত আন্তজেলা ডাকাতরা হলো, বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার দুধল মৌ গ্রামের মো. নাজিমুদ্দিনের ছেলে মো. মিলন (৪৬) এবং রাজবাড়ি সদর উপজেলার খানবানাপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ইসমাইল হোসেন মামুন (৫০)। গত ১১ ও ১৮ এপ্রিল ঢাকার হাজারিবাড় ও যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যমতে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল, মাইক্রাবাস, ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২২ মার্চ সন্ধ্যায় বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাঁচগাও এলাকায় একদল ডাকাত গুলি ছুরে প্রাইভেটকার ভাংচুর করে কয়েকজন মহিষ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই ব্যাগে ভর্তি ৭৮ লাখ টাকা ডাকাতি করে নেয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা হলেন রাজশাহীর বিন্দারামপুর গ্রামের মোকসেদ আলীর ছেলে পিয়ারোল এবং একই এলাকার লিটন মিয়া, মনিরুল ও জেবেল মিয়া।
ব্যবসায়ীরা উপজেলার কাইতলা গরুর হাটে সারাদিনের বেচা কেনা শেষ করে সন্ধ্যায় প্রাইভেটকারে ফিরছিলেন। পথে পাঁচগাও এলাকায় ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাসে আসা ২০-২৫ জন ডাকাত প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে। এ সময় তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে প্রাইভেটকারের গ্লাস ভেঙে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থাকা ৭৮ লাখ টাকা ভর্তি দুটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ব্যবসায়ী পিয়ারোল বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের নামে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন।
মামলা হওয়ার পর টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় গোয়েন্দা পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে টিম গঠন করা হয়। এই টিম আসামীদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পরে গত ১১ এপ্রিল ও ১৮ এপ্রিল ঢাকার হাজারিবাগ ও যাত্রবাড়ি থেকে মিলন ও ইসমাইল নামে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ নগত ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা, দুটি মোটরসাইকেল, একটি মাইক্রাবাস এবং ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তৎপর ছিল। পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় ঘটনার মুল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ইসমাইল হোসেন মামুনকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়ীত অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।







