মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আন্তর্জাতিক মানের জিআই ভৌগোলিক নির্দেশক) পন্য হিসেবে স্বীকৃতির নিবন্ধন সনদ পেয়েছে শত বছরের স্বনামধন্য প্রসিদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী জামিুর্কির সন্দেশ। গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিশ^ মেধা সম্পদ দিবস উপলক্ষে শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিঢয়ক মন্ত্রণালয়ে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর আয়োজিত ফরেন সার্বিস একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দের নিকট থেকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক জিআই পন্যের নিবন্ধন সনদপত্র গ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. জামিলুর রহমান, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, শিল্পমন্ত্রণলয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। মির্জাপুরের জামুর্কির সন্দেশ জিআই পন্যের নিবন্ধনের খবর ছড়িয়ে পরলে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
আজ শুক্রবার টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জামুর্কির সন্দেশ জিআই পন্যের স্বীকৃতির নিবন্ধনপত্র পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন করা হয়। এক বছর পর মিললো সেই স্বীকৃতির নিবন্ধন সনদপত্র। জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি এলাকায় বসবাস করতেন জমিদার ও সনাতন ধর্মের বনেদী বংশের পরিবার। জামুর্কি গ্রামের মদন মোহন সাহা প্রথম মিষ্টি তৈরী করে বিক্রি শুরু করেন। তার পুত্র কালীদাস সাহা পরে এই পেশায় যোগদেন। দুধ, চিনি, মসলা ও পটালি গুড় ব্যবহার করে দুই রকমের সু-সাধু ও উন্নত মানের সন্দেশ তৈরী করেন। মুলত তার হাত ধরেই ধীরে ধীরে জামুর্কির সন্দেশ দেশ বিদেশে ক্যাতি অর্জন করে। এখনও জেলার বিভিন্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ কিংবা পূজা-পার্বনে জামুর্কির কালিদাসের সন্দেশ অন্যতম উপাদান হিসেবে খাবার টেবিলে রাখা হয়। দেশূ-বিদেশী অনেক ব্যক্তিও এই মিষ্টির স্বাদ নিয়ে মুগ্ধ হয়েছেন জানা জানা যায়।
জিআই পন্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় স্থানীয়দের মদ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তারা জানিয়েছেন, এই অর্জন শুধু আমাদের নয়, এটা টাঙ্গাইল জেলাসহ মির্জাপুরবাসির জন্য। শুধু তাই নয় এই স্বীকৃতি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মুর্ত প্রতীক হয়ে থাকবে।
জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডি এ মতিন ও সাবেক চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি এলাকায় স্থাপিত হয় সন্দেশের দোকান। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সন্দেমেল জন্য জামুর্কির সন্দেশের দোকানে আসে। তিন চার টি দোকানে প্রতি দিন হাজার হাজার মন সন্দেশ বিক্রি হয়। প্রতি কেজি সন্দেশ এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ শত টাকায়। সন্দেশ ব্যবসায়ী সমর সাহা, ননী সাহাসহ অনেকেই জানিয়েছেন, আগে এক কেজি সন্দেশ ২৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হতো। একন সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে দাম বাড়িয়ে ৭০০-৮০০শ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন টাঙ্গাইল জেরা প্রশাসন ও মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন আমাদের সন্দেশের সু-খ্যাতি অর্জনের জন্য আন্তজার্তিক মানের যে স্বীকৃতি এনছিলেন এটা আমাদরে জন্য অনেক গর্বের বিষয়। আমরা প্রশাসনের নিকট চির কৃতজ্ঞ।
টাঙ্গাইল জেরা প্রশাসক শরীফা হক এবং মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল এবং এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান বলেন, মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কির সন্দেশ আন্তর্জাতিক মানের জিআই পন্যের স্বীকৃতি ও নিবন্ধনপত্র পাওয়ায় আমরাও গর্বিত ও আনন্দিত। জামুর্কির সন্দেশ তৈরীর সঙ্গে যারা জড়িত সরকার তাদের যথাযত মুল্যায়ন করেছেন। আমরা আশা করছি তারা তাদের এই সুনাম ধরে রাখবে। এর আগে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প তাঁতের শাড়ি, টাঙ্গাইলের চমচম ও মধুপুরের আনারস জিআই পন্যের স্বীকৃতির নিবন্ধন পেয়েছে।







