মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডে বার্ডস কারখানায় অর্ডার সংকট দেখিয়ে কতৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসোন্তোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরেছে। আজ রবিবার গোড়াই মমিননগর এলাকায় বার্ডস গ্রুপের সহযোগি প্রতিষ্ঠান বার্ডস এন্ড জেড রিমিটেড কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। কারখানা বন্ধ ঘোষণার খবরে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শতশত শ্রমিক-কর্মচারী বিক্ষোভ সমাবেশ করে কারখানার সামনে অবস্তান নিয়েছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগন বড় ধরনের নাশকতা ঠেকাতে শ্রমিকদের সঙ্গে দফাফ দফায় কথা বলেছেন। কারখানার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বাঙলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের ক্ষতিপুরন দেওয়া হবে।
জানা গেছে, বার্ডস কারখানায় প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মচারী রয়েছে। যারা দীর্ঘ দিন ধরে এই কারখানায় কাজ করেন। এর আগেও এই কারখানা কয়েকবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের বেতনভাতা দেওয়া হয়েছে। এখন আবার হঠাৎ করেই কারখানা বন্ধ ঘোষনা করা হলো। কারখানার সামনে কতৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, কোভিট ১৯ মহামারি, রামিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সাম্্রপতিককালে বৈশি^ক অর্থনৈতিক মন্দার কারনে দীর্ঘ দিন ধরে বিদেশী রপ্তানী অর্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। নানা ভাবে কারখানায় উৎপাদন ব্যবস।তা চালু রাখার চেষ্টা করেও এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না। কারখানার শতশত কোটি টাকা লোকসানের কারনে মালিকপক্ষ দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শ্যম আইন ২০০৬ এর ১২ (১), ১২ (৮) ধারায় আজ রবিবার (১০) আগস্ট থেকে সকল সেকশনের কাজ বন্ধ ঘোষণা করে শ্রমিক-কর্মচারীদের লে-অফ ঘোষণা করা হলো। লে অপ-কালিন সময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের হাজিরা দেওয়ার ্রপয়োজন নেই। ভবিষ্যতে বৈদেশ্যিক রপ্তানী বা সাব কন্টাক অর্ডার পাওয়া গেলে উৎপাদন শুরু হবে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে আজ রবিবার দুপুরের পর থেকে কারখানার সামনে নোটিশ দেখে শ্যমিকদের মধ্যে উত্তজনা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। শতশত শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নিতে থাকে। অসহায় শ্রমিকদের মধ্যে শাহানাজ বেগম, মুন্নি আক্তার, পারভীন ও মোর্শেদা অভিযোগ করেন, মালিক পক্ষ বেতন ভাতা পরিশোধ না করেই নানা অযুহাতে কারখানা বন্ধ ঘোষনা করেছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাকুরী হারিয়ে ও বেতন ভাতা না পেয়ে এখন কোথায় যাব। আগে আমাদের পরিবারের কথা চিন্তা করতে হবে। কাজ না পেয়ে আমরা না খেয়ে মরে যাব।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রাসেদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার বাহিনীর সদস্যগন ঘটনাস্তলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষুব্দ শ্রমিক কর্মচারীরা শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা বসানোর চেষ্টা করেন।
এ ব্যাপারে বার্ডস এন্ড জেড লিমিটেড এর কারখানার ম্যানেজার সাহাদত আনোয়ার গণমাধ্যম কমৃীদের বলেন, অর্ডার সংকটের কারনে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে পুরো কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে অর্ডার পেলে কারখানা চালু করা হবে এবং শ্রমিকদের বেতন ভাতাও পরিশোধ করা হবে।







