মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর এক ভুতরে পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রায় দেড় যুগ ধরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনগুলো অত্যান্ত ঝুঁকিপুর্ন, জরাজীর্ন এবং পরিত্যক্ত। ঔষধ সরবরাহ বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর-দুরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে খোঁজ গেছে গেছে এক ভুতরে পরিবেশ। মির্জাপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণারয় থেকে অর্থ বরাদ্ধ না থাকায় এবং বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন। উন্নয়ন তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্ধ না থাকায় ভবনগুলো সংস্কার করা যাচ্ছে না। এভাবেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে মির্জাপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা।
মির্জাপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সুত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র রয়েছে। এসব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা ও প্রসুতি সেবাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা পেয়ে আসছে। দীর্ঘ দিন ধরে মির্জাপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনগুলো করুন ও বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
জানা গেছে, আজাগানা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, বাঁশতৈল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ অধিকাংশ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বহুরিয়া, বানাইল, আনাইতারা, তরফপুর, বহনতলী ও জামুর্কি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কে›ন্দ্র জরাজীর্ণ ও অত্যান্ত ঝুঁকিপুর্ন। রক্ষণা-বেক্ষনের অভাবে ভবনগুলোর দেয়াল ও ছাঁদ খসে পরছে। চারপাশে বন-জঙ্গনে ঘিরে রয়েছে। বাঁশতৈল খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী লাইজু আক্তার, শারমিন জাহান রত্না এবং বংশাই স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী শিউলী আক্তার ও শারমিন জানান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় তারা শারীরিক সমস্যা নিয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পরামর্শের জন্য যান। এছাড়া এলাকার গর্ভবর্ভী মা ও শিশুরা এখানে চিকিৎসা পাওয়ার কথা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কোন ঔষধ পাচ্ছেন না। শুন্য হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে প্রায় দেড় যুগ।
আজগানা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী ডা. রঞ্জিত রতফদারসহ চারজন চিকিৎসক এ বিষয়ে বলেন, অর্থের অভাবে ভবনগুলো সংস্কার না হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ঔষধ দেওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দা, বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকান ও বিভিন্ন বাড়ির বারান্দায় বসে স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসাপত্র দিয়ে আসছেন। একই অবস্থা উপজেলার ধেরুয়া, ছাওয়ালী, ফতেপুর, আগৈত ও গলচড়া স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর ভবন দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভাবে নির্মানের জন্য স্বাস্থ ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও এলাকাবাসি জোর দাবী জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদেব কর্মকার বলেন, মির্জাপুর উপজেলা ইউনিয়র স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর ভবনগুলো ঝুঁকিপুর্ন ও জরাজীর্ন এবং করুন অবস্থা দীর্ঘ দিনের। বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনগুলো সংস্খার করার মত উপযোগী নয়। নতুন ভাবে ভবন নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সকল ধরনের ঔষধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে গত ৬ মাস। রোগীরা চিকিৎসা নিতে এলেও পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ দেওয়া যাচ্ছে না। অর্থের অবাবে বিদুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদুৎ বিভাগ কেটে নিয়েছে লাইন। বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকেও জানিয়েছেন। কিন্ত কোন কাজ হচ্ছে না।







