মির্জাপুরে বেয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি আতংকিত পথচারী ও শিশু শিক্ষার্থী

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তাঘাট, হাট বাজার, বাসাবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধিতে সাধারণ পথচারী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আতংকিত। বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন কার্যক্রম না থাকায় দিন দিন বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে বেওয়ারশি কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধির ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, একটি পৌরসভা এবং ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে মির্জাপুর উপজেলা গঠিত। মির্জাপুর উপজেলার গ্রামের সংখ্যা ২৩১ টি এবং জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যা অনুপাতে স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম অত্যান্ত নাজুক। উপজেলার বিভিন্ন বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাট, সরকারি বেসরকারী দপ্তর, হাট বাজার ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে দল বেঁধে বেওয়ারিশ কুকুর প্রতি নিয়তই ঘুরাফেরা করে আসছে। অনেক সময় এই বেওয়ারিশ কুকুর পথচারী, সাধারণ মানুষ, গবাদি পশু এবং শিশু শিক্ষার্থীদের কামড় দিয়ে তাকে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তাঘাটে চলাফেরা করার সময় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে আতংকিত থাকে। মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, প্রতি দিনই কোন না কোন পথচারী বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু শিক্ষার্থীদের বেওয়ারিশ কুকুর কামড় দিয়ে তাকে। এ বিষয়ে পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রনের জন্য তারা কোন প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।
৫ম শ্রেনীর শিশু শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন, নিলিমা হাসান, ৬ষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণীর ছাত্র আশরাফ ও শান্তাসহ অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে বেওয়ারিশ কুকরের উপদ্রবে আমরা আতংকিত থাকি। দল বেঁধে কুকুর চলাফেরা করে। এগুলো নিয়ন্ত্রনের কোন ব্যবস্থা নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শুভাশিষ কর্মকার বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনেশন টিকা দিয়ে থাকেন। প্রাণী সম্পদ দপ্তর থেকে এ ধরনের কোন প্রকল্প নেই। এছাড়া বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের জন্য যে সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন তাও তাদের নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রনে বা নিধনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের র‌্যাবিস টিকা ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম গত তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। সরকারি ভাবে কোন বরাদ্ধ না থাকায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। সরকার যদি এই প্রকল্প পুনরায় চালু করেন তবেই বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে বরাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও কিশোর কিশোরীদের শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনামুলক সভা

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *