মির্জাপুরে স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা, ঘাতক স্বামী পলাতক

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে নির্মম ভাবে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের তরফপুর নামাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম রোজিনা আক্তার (৩৫)। সে ওই এলাকার আব্দুল লতিফের স্ত্রী এবং একই গ্রামের মুচিরচালা এলাকার হাসমত আলীর মেয়ে। ঘটনার পর ঘাতক স্বামী ওই এলাকার খবির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল লতিফ (৪৬) পালিয়ে গেছে। খুনের শিকার রোজনার পরিবার এবং এলাকাবাসি ঘাতক লতিফকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মুলক মাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীর পরকীয়া সন্দেহে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কিছুদিন ধরে মনোমানিল্য এবং বনিবনা হচ্ছিলনা। গত এক সপ্তাহ পূর্বে এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে রোজিনা বাবার বাড়ি চলে যান। গতকাল রোববার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় ঘটনার আপোস মিমাংসার মাধ্যমে লতিফ মিয়া স্ত্রী রোজিনাকে বাবার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।
আজ সোমবার তাদের দুই সন্তান স্কুলে গেলে বাড়ি ফাঁকা থাকে। এই সুজোগে ও পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে দুপুরে লতিফ মিয়া নিজ বসত ঘরের খাটে শুয়ে থাকা স্ত্রী রোজিনাকে কুড়াল দিয়ে গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারি কুপালে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। স্ত্রীকে হত্যা নিশ্চিত করে ঘটনার পরপরই ঘাতক স্বামী লতিফ পালিয়ে যান। পরে আশপাশের ও বাড়ির লোকজন ঘটনা জানতে পেরে মির্জাপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানার ওসি তদন্ত মো. সালাউদ্দিন এবং উপপরিদর্শক মো. ফরহাদ হোসেনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল যান।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, পরকীয়া ও পারিবারিক কলহে স্বামী আব্দুল লাতিফ মিয়া তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর পালিয়ে গেছে। তার পরিবার এমন তথ্যই দিয়েছেন। ঘটনার পর ঘাতক স্বামী পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেফতার করা গেলে খুনের মুল রহস্য উৎঘাটন করা যাবে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রোজিনার পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে ১২ নং তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজ রেজা বলেন, পরকীয়া ও স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে গৃহবধু রোজিনা নির্মম বাবে খুন হয়েছে। তাদের দ্ইু সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর স্বামী আব্দুল রতিফ পলাতক। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মুলক মাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘাতক স্বামী আব্দুল লতিফ গ্রেফতার হয়নি।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে বরাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও কিশোর কিশোরীদের শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনামুলক সভা

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *