মির্জাপুরে কলেজ ছাত্রীকে ইফটিজিং করায় বখাটেকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহেড়া ইউনিয়নের বানিয়ারা গ্রামে এক কলেজ ছাত্রীকে ইফটিজিং করার প্রতিবাদ করায় ইফটিজার ও তার সহযোগিরা ঐ ছাত্রীর পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে। উত্তেজিত এলাকাবাসি জোট বেঁধে ইফটিজার ও বখাটে সুজন মল্লিক (৩০) কে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ঘটনার মুলক নায়ক ও বখাটে সুজন মল্লিক বানিয়ারা বাবুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার অফিস সহকারী। এই ঘটনায় দুই গ্রামের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে।
বানিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা ও হোমিও চিকিৎসক খন্দকার রাজিউল মাতিন দ্রুবসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বখাটে ও ইফটিজার সুজন মল্লিকের পিতার নাম জালাল মল্লিক। গ্রামের বাড়ি মহেড়া ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে। সুজন বানিয়ারা বাবুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়া গ্রামের এক ছাত্রী বানিয়ারা গ্রামের নানার বাড়িতে থেকে করটিয়া সরকারী সাদত বিশ^বিদ্যালয়ের পড়াশোনা করে। ঐ ছাত্রী করটিয়া কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। কলেজে আসা যাওয়ার পথে বখাটে সুজন তাকে প্রতিনিয়ত উত্তক্ত্য ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ঐ ছাত্রী বিষয়টি তার নানা ও মামাকে জানালে বখাটে সুজন ও তার সহযোগিরা উল্টো ছাত্রীর মামা জীবন ও মৃদুলসহ কয়েকজনকে মারপিট করে। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। আজ শুক্রবার আবারও বখাটে সুজন ঐ ছাত্রীকে উড়না ধরে উত্তক্ত্য করে। এলাকার লোকজন বিষয়টি দেখে সুজনকে ধরার জন্য ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে তাকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে বখাটে সুজন পালিয়ে গিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেয। লোকজন মির্জাপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বখাটে সুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। অসহায় কলেজ ছাত্রী ও তার পরিবার এবং এলাকাবাসি বখাটে সুজনের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। এদিকে বখাটে সুজনকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পরলে বানিয়ারা ও তেতুলিয়া গ্রাম বাসির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে বানিয়ারা বাবুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল্লাহ তালকদার বলেন, সুজন মল্লিক তার মাদ্রাসার অফিস সহকারী। এক কলেজ ছাত্রীকে ইফটিজিং করায় এলাকার লোকজন গণপিটুনি দিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম এবং ডিউটি অফিসার মিজান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বখাটে সুজন মল্লিক এক ছাত্রীকে ইফটিজিং করায় এলাকার লোকজন ধরে পিটুনি দিয়ে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে বরাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও কিশোর কিশোরীদের শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনামুলক সভা

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *