মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর অধিনে কর্মরত স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীগন ৬ দফা দাবী আদায়ের লক্ষে কর্মবিতরতী পালন করায় ইপিআইসহ সরকারী চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। সব চেয়ে বেশী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিশু ও নারীরা। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেওয়ায় মির্জাপুর উপজেলায় সরকারী চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পরেছে। আজ রবিবার ৫ অক্টোবর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলা সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র জামুর্কি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে স্বাস্থ্যকর্মীগন অফিসের কাজ বন্ধ রেখে মানববন্ধনসহ কর্মবিরতী পালন ও সমাবেশ করে যাচ্ছেন।
মির্জাপুর সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের কর্মরত সহকারী স্বাস্থ্যকর্মী মো. উজ্জল আহমেদ ও কাজী রাসিদাসহ স্বাস্থ্য পরিদর্শকগন অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের যোগদান করে যুগযুগ ধরে আমরা বেতন ভাতাসহ গ্রেড পরিবর্তন ও সকল ধরনের সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছি। আমরা যখনই দাবী আদায়ের জন্য আন্দোলনে নেমেছি বিগত সরকার এবং মন্ত্রণালয় আমাদের এই নায্য দাবীগুলো মেনে নিবে বলে ঘোষনা দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে। আমাদের মুল দাবী হচ্ছে স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের নিয়োগ বিধি সংসোধন ইন সার্ভিস ট্রেনিং গ্রেড ১৪ তম গ্রেড পরিবর্তনসহ ৬ দফা দাবী দ্রæত বাস্তবায়ন। এই দাবী গুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না। আন্দোলন চলবে।
এদিকে গত ১ অক্টোবর থেকে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রসহ টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের কর্মরত স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীগন কর্মবিরতী পালন করায় সরকারী চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ভেঙ্গে পরেছে। টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় ১২০ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও ৪২০ জন স্বাস্থ্য সহকারী একযোগে কর্মবিরতী পালন করে যাচ্ছেন বলে তারা উল্লেখ করেন। প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সরকারী সেবা নিতে এসে স্বাস্থ্য সহকারী ও স্বাস্ত্য পরিদর্শক না পেয়ে শতশথ রোগী ফিরে যাচ্ছেন বলে াৈিবযাগ পাওয়া গেছে।।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে স্বাস্থ্য সহকারীগন আন্দোলনে যাওয়ায় তৃণমুলে ইপিআই কর্মসুচী, মা ও প্রসুতি, শিশু স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম, ট্রাইফয়েড ভ্যাক্্িরনেশন কার্যক্রমসহ সকল সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা স্বাস্থ্য সহকারী ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের অফিসে না পেয়ে চরম বিপাকে পরেছেন শতশত রোগী ও তাদের স্বজনরা। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ট্রাইফয়েড ভ্যাক্্িরনেশন কার্যাক্রম বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুরুর কথা থাকলেও তা অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিট্যান্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল মিয়া বলেন, ৬ দফা দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদরে কর্মবিরতীসহ আন্দোলন চলবে। দাবী পুরনা না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাব না।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, সারা দেশের ন্যায় মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকগন ৬ দফা দাবী আদায়সহ কর্মবিরতী পালনসহ গত ১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন করে যাচ্ছে। ফলে তৃণমুলসহ বিভিন্ন সেবা কার্যাক্রম বন্ধ থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দুর্ভোগে রয়েছেন। বিষয়টি এখন উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের বিষয়।







