মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল এন্ড কলেজে ১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য ছিল ২২ জন শিক্ষক। তবু সবাই ফেল করেছে। ১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কোন পরীক্ষার্থী পাশ পরেনি। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র অসোন্তোষসহ টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। মির্জাপুর উপজেলায় ১৬ কলেজ-মাদ্রাসায় গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্ব ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুসেল সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। অভিভাবকদের বক্তব্য হচ্ছে প্রতিটি স্কুল-কলেজে ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষকমন্ডলী ও এলাকাবাসির মধ্যে দ্বন্ধ এবং শিক্ষার্থীগন নিয়মিত স্কুল-কলেজে না এসে মোবাইলে আসক্তসহ মাদকের দিকে ঝুঁকে পরেছে। ফলে পরীক্ষায় এমন ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে।
জানা গেছে, ফতেপুর ময়নাল হক উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৯ সালে স্তানীয় দানবীর ফজলুল হক নন্দ মিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। বিগত দিনে ফলাফল সন্তোষ জনক হলেও প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। প্রধান শিক্ষক এ টি এম আব্দুল মতিন গত দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসতে পারেন না। স্কুরে নিয়মিত পাঠদানও হচ্ছে না। ২০২৩ সালে আবার বিদ্যালয়টি নাম পরিবর্তন করে ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল এন্ড কলেজ কলেজ করা হয়। ১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২২ জন শিক্ষক-কর্মচরাী থাকলেও চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাঢল শুন্যের কোঠায়। কেউ পাশ করেনি। শিক্ষক ও এলাকাবাসির অভিযোগ এর মুল কারন প্রতিষ্ঠানে চরম দ্বন্ধ। একই অবস।তা মির্জাপুর মহিলা কলেজে। এখানে পাশ করেছে মাত্র ১৪ শতাংশ।
প্রধান শিক্ষক এ টি এম আব্দুল মতিনের সঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবু গৌরাঙ্গ সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের নানা সমস্যার কারনে প্রধান শিক্ষক কলেজে আসতে পারেন না। ১৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে মানবিক শাখা ২০২৩ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়েছে। এটা ছিল প্রথম ব্যাচ। নানাবিধ সমস্যার কারনে ফলাফল খারাপ হয়েছে।
এদিকে চলতি বছর মির্জাপুর উপজেলার সাধারণ শাখায় বিভিন্ন কলেজ থেকে ২৩৮৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১০৯৮ জন। পাশের হার ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ ও ভারতেশ^ী হোমস শতভাগ পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ জন।
রাজাবাড়ি কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ২৯৬ জন, পাশ করেছে ২০১ জন, পাশের হার ৬৭ শতাংশ, বাঁশতৈল খলিলুর রহমান কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ২৭০ জন পাশ করেছে ১২৪, পাশের হার ৪৬ শতাংশ, ওয়ার্শি নতুন কহেলা কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ১২৪ জন পাশ করেছে ৫১ জন, পাশের হার ৪৬ শতাংশ, মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ১১৬২ জন পাশ করেছে ৫২৭ জন, পাশের হার ৪৬ শতাংশ, বংশাই স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ৮০ জন পাশ করেছে ৩৩ জন, পাশের হার ৪২ শতাংশ, ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ৬৪ জন পাশ করেছে ১৯ জন, পাশের হার ১৬ শতাংশ, ছাফদার আলী কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ৬ জন, পাশ করেছে একজন, পাশের হার ১৬ শতাংশ, মির্জাপুর মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ২২১ জন পাশ করেছে ৩১ জন, পাশের হার ১৪ শতাংশ এবং ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ১৮ জন, পাশের শুন্য শতাংশ। এই কলেজ থেকে কেউ পাশ করেনি।
অপর দিকে বিজিনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএমএ শাখা) তিনটি কলেজ থেকে ১৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৮৭ জন। আলহাজ¦ শফিউদ্দিন মিঞা এন্ড একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ৭০ জন পাশ করেছে ৬৯ জন, পাশের হার ৯৯ শতাংশ, নতুন কহেলা কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ৬৮ জন পাশ করেছে ৬৩ জন, পাশের হার ৯৪ শতাংশ, গ্রামবাংলা বিজনেজ ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ৫৫ জন পাশ করেছে ৫৫ জন, পাশের হার শতভাগ। এছাড়া আলীম পরীক্ষায় বানিয়ারা সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ১৮ জন পাশ করেছে ১৩ জন, পাশের হার ৭২ শতাংশ।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হায়দার বলেন, মির্জাপুর উপজেলায় যে সব কলেজে ফলাফল বির্যয় হয়েছে এগুলোর উপর বিশেষ নজরদারী বাড়ানো হবে। পাশাপাশি শিক্ষার গুনগত পরিবর্তনে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ফতেপুর ময়নাল হক স্কুল এন্ড কলেজ ফলাফল কেন খারাপ করেছে পরিদর্শন ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







