মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাত দিনের ব্যবধানে তিন স্কুল ছাত্রী বখাটেদের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে। ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির সময় লিটন ও হানিফ এই দুই বখাটেকে স্থানীয় লোকজন আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। অপর বখাটে সাজিন তার বন্ধুদের সহযোগিতায় ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির পর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে ঐ ছাত্রী এখন আত্নহত্যার হুমকি দিয়েছে। এ নিয়ে স্কুলে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে তিন স্কুল ছাত্রী বখাটেদের হাতে শ্লীলতাহানির শিকারের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে ও ভুক্তভোগি পরিবারের অভিযোগে জানা গেছে, গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বরাটী বাজারে শ্লীলতহানির শিকার হয় বরাটী গ্রামের তৃতীয় শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থী। বরাটী বাজারের ব্যবসায়ী মিন্টু, শহিদসহ একাধিক ব্যক্তি জানায়, বাংগল্যা গ্রামের বাদশা খানের ছেলে লিটন খান ঐ শিশু শিক্ষার্থীকে তার দোকানে দিবালো শ্লীলতাহানি করে। শিশুটি তার দোকানে বিস্কুট কিরতে এলে বখাটে লিটন শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে শ্লীলতাহানি করে। বাড়িতে ফিরে শিশুটি এই ঘটনাটি তার পরিবারকে জানায়। শিশুর পরিবার ও এলাকার লোকজন বখাটে লিটন খানের দোকানে এসে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে দোকান ভাংচুর করে। গণপিটুনির পর বখাটে লিটন অসুস্থ্য হয়ে পরলে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে জামুর্কি সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে বখাটে লিটন পালিয়ে যায়। ন্যায় বিচার চেয়ে অসহায় শিশুটির মা বাদী হয়ে বখাটে লিটনকে আসামী করে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) মির্জাপুর থানায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত বখাটে লিটনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। শিশুর পরিবার ও এরাকাবাসি বখাটে লিটনকে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।
বরাটী বাজারে শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতহানির ঘটনার পরের দিন গত সোমবার (১৮ অক্টোবর) গোড়াই ইউনিয়নের রানাশাল গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অমানবিক ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসি জানায়, রানাশাল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরছিল। বাড়ি ফেরার পথে একই এলাকার রহিম মিয়ার ছেলে সাজিন মোটর সাইকেল নিয়ে রাস্তা গতিরোধ করে ঐ ছাত্রীর বোরখা খুলে শ্লীলতাহানি করে। প্রাণ বাঁচাতে ছাত্রী দুই হাত তুলে মাপ চেয়েও তার হাত থেকে রেহায় পায়নি। শ্লীলতাহানির এই ঘটনা পাশে দাড়িয়ে থাকা বখাটে সাজিনের বন্ধু পারভেজ, আশরাফ, রহমান ও তোষার ভিডিও ধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। শ্লীলতাহানির ভিডিওর এই ঘটনাটি এলাকায় তোলপার সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্দ এলাকাবাসি বখাটে সাজিনকে আটক করে লাঠিপেটা করে এবং কান ধরে ওঠবস করে ছেড়ে। খবর পেয়ে পুরিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও বখাটে সাজিন ও তার অপর বন্ধুরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় লোকলজ্জার ভয়ে অসহায় ছাত্রী আত্নহত্যার হুমকি দিয়েছে। শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রীর পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসি বখাটে সাজিনসহ তার সহযোগিদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।
সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) মহেড়া ইউনিয়নের স্বল্পমহেড়া গ্রামের রেল স্টেশনের পাশে গেট ম্যান হানিফ মিয়ার হাতে শ্লীতাহানির শিকার হয় ১৩ বছরের এক শিক্ষার্থী। এলাকাবাসি জানায়, রেল লাইনের পাশ দিয়ে যাচ্ছেল ঐ ছাত্রী। রেল স্টেশনের গেট ম্যান আবু হানিফ ফুসলিয়ে নিয়ে শিশু ছাত্রীকে জামাকাপড় খুলে শ্লীলতহানির চেষ্টা করে। শিশুর আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাটি দেখে তাকে উদ্ধার করে। গেইট ম্যান হানিফকে বিক্ষুব্দ লোকজন গণপিটুনি দিয়ে গলায় জুতার মালা দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গেট ম্যান হানিফ মিয়ার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রাগুনাথপুর গ্রামে। মির্জাপুর থানার এসআই বাসেদ ফজল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। শিশুটির পরিবার ও এলাকাবাসি বখাটে হানিফ মিয়ার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও রানাশাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ও বংশাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বখাটেদের উৎপাত প্রতিরোধের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হায়দার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বখাটেরা যাতে চলাফেরা করতে না পারে সে জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকার সাধারণ জনগনকে আরও সচেতন হতে হবে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রাসেদুল ইসলাম বলেন, বখাটেরা যাতে বিনা কারনে রাস্তায় চলাফেরা করতে না পারে সে জন্য পুলিশ নিয়মিত টহল দিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় বখাটেরা কৌশল পরিবর্তন করে ছাত্রীদের উত্যক্তসহ নানা ভাবে শ্লীলতাহানির চেস্টা করে। এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বখাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।







