মির্জাপুরে মা খুন বাবা জেল হাজতে তিন নাতনীকে নিয়ে বিপাকে বিষু মিয়া ও সমলা বেগম

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
মা খুন এবং বাবা জেল হাজতে থাকায় তিন নাতনী বড় মেয়ে প্রতিবন্ধি কহনা (১৪), মেজো মেয়ে কাফিয়া (৫) ও ছোট মেয়ে কাশফিয়া (৫ মাসকে) নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন অসহায় নানা বিষু মিয়া এবং নানী সমলা বেগম। সমলা বেগম ও বিষু মিয়া মা হারানো তিন নাতনীকে নিয়ে দিশেহারা। এখন কোথায় যাবে, কি করবো এই চিন্তায় বিপাকে পরেছেন। আশপাশের লোকজন অসহায় তিন কন্যাকে দেখতে ও বিষু মিয়া ও তার স্ত্রী সমলা বেগমকে একটু শান্তনা দিতে ঐ বাড়িতে প্রতিনিয়তই ভিড় করছেন। অনেকেই তাদের দিচ্ছে শান্তনা। মায়ের কথা যখনই মনে করছে তখনই হাউমাউ করে কান্না করছে তিন কন্যা। তাদের বুক ফাঁটা কান্নায় চার পাশের বাতাস ভারি হয়ে আসছে। কেউ এলেই তিন কন্যা প্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে তাকে। আর মেয়েকে হারিয়ে বার বার মুর্চা যাচ্ছেন বিষু মিয়া ও সমলা বেগম। এভাবেই গত ১৫ দিন ধরে চলছে বিষু মিয়া ও সমলা বেগমের বাড়িতে শোকের মাতম।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার বাওয়ারকুমারজানি রোডে গোলাপীর বাবার বাড়ি। গত ২৩ অক্টোবর গোলাপী বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় এবং ২৬ অক্টোবর মির্জাপুর থানার ৩০০ গজ দুরে মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারী কলেজের পুর্ব পাশের বারই খাল থেকে গোলাপী বেগমের লাশ উদ্ধার হয়।
গৃহবধু গোলাপী খুনের প্রধান আসামী ঘাতক আব্দুল কাদেরকে তিন দিনের রিমান্ডে এনেছিলেন মির্জাপুর থানা পুলিশ। আজ রবিবার (৯ নভেম্বর) তার রিমান্ড শেষে শেষে হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছেন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এগুলো প্রকাশ করছেন না। রিমান্ডে আসা আসামী আব্দুল কাদের গোলাপীর আক্তারের স্বামী। ঘাতক আব্দুল কাদেরের গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর পৌরসভার পুষ্টকামুরী গ্রামে। গত শনিবার আব্দুল কাদেরকে মির্জাপুর শহরের বাওয়ার কুমারজানি রোডের শ^শুর বিষু মিয়ার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আজ রবিবার মামলার তদন্তকারী অফিসার উপপরিদর্শক সানাউল হক জানিয়েছেন তাকে গ্রেফতারের পর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের বিচারক আব্দুল কাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে বেশ গুরুত্বপুর্ন তথ্য পাওয়া গেছে। খুনের রহস্য উৎঘাটন হবে। গোলাপী বেগমের মা সমলা বেগম ও এলাকাবাসি জানান, গত ২৩ অক্টোবর গোলাপী তিন কন্যা সন্তান রেখে বাড়ি থেকে রহস্য জনক ভাবে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। নিখোঁজের তিন পর গত ২৬ অক্টোবর পুলিশ পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে। এদিকে তার শ^শুর বিষু মিয়া ও শ^াশুরী সমলা বেগম শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন, তাদের মেয়ে গোলাপী খুনের সন্দেহের তীর তার স্বামী আব্দুল কাদেরের দিকে। পারিবারিক বিরোধ ও মোটা অংকের টাকার লোভে পরিকল্পিত ভাবে গোলাপীর স্বামী আব্দুল কাদের তাদের মেয়েকে নির্যাতন ও খুন করে লাশ গুম করেছিল। এ নিয়ে থানায় মামলা করেন গোলাপীর বাবা বিষু মিয়া। মামলার পর পুলিশ ঘাতক আব্দুল কাদেরকে নজরদারীতে রেখেছিলেন। তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর গত শনিবার তাকে গ্রেফতারের পর ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছিল। এদিকে মা খুন ও বাবা জেল হাজতে তাদের ঘরে তিন কন্যা কহনা (১৪) বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধি, কাফিয়া (৫) ও কাশফিয়া (৫ মাস) কে নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেনর নানা বিষু মিয়া ও নাানী সমলা বেগম বলে জানিয়েছেন। মাকে হারিয়ে তিন বোন বার বাব মুর্ছা যাচ্ছে। বাবাকেও না পেয়ে তারা অসহায় হয়ে পরেছে। বিষু মিয়া ও তার স্ত্রী সমলা বেগম ঘাতকদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, গোলাপী খুনের ঘটনায় তার স্বামী আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এই হত্যাকান্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে বরাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও কিশোর কিশোরীদের শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনামুলক সভা

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *