১৩ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর হানাদার মুক্ত দিবস

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
১৩ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় মির্জাপুর উপজেলা। দীর্ঘ ৮ মাস ১০ দিন যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট পাকহানাদারদের আত্মসমর্পনের মাধ্যমে মির্জাপুরের আকাশে বাতাসে হেমন্তের দ্বিপ্রহরে উড্ডীয়ন হয় সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্য খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এই পতাকা এমনি আসেনি। এর জন্য মির্জাপুর বাসিকে দিতে হয়েছে অনেক রক্ত এবং পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে অনেক সম্মুখ যুদ্ধে।
৩রা এপ্রিল ঢাকা-টাংগাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়ান সাটিয়াচড়ায় পাকসেনারা আসামাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্যরা নর ঘাতকদের উপর গুলি চালায়। দীর্ঘ সম্মুখ যুদ্ধে ১০৭ জন মুক্তিপাগল বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয় এবং ইপিআর নিহত হয় ২৩ জন। ৩৫০ জন পাকবাহিনী হতাহতের পর গোড়ান সাটিয়াচড়া মুক্ত হলেও পাকসেনারা ঘাটি করে বসে উপজেলা সদর এবং ভড়রা ও নরদানা গ্রামে। পাকসেনারা আশেপাশের গ্রামে লূটপাট আর অগ্নিসংযোগ করে নিরীহ ২৮ জন বাঙ্গালীকে হত্যা করে। ৭ মে দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা, তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা এবং ৮ মে জয়নাল সরকারকে পুড়িয়ে হত্যা, মাজম আলী, মির্জাপুর ও আন্ধরা গ্রামের রাখাল চন্দ্র সাহা, সুদাম চন্দ্র সাহা, নিতাই মেম্বার, পান্না লাল, জগবন্ধু রায় সহ ৩৮ জনকে হানাদার এবং এদেশীয় দোসররা হত্যা করে লাশ লৌহজং নদীতে নিক্ষেপ করে। সে দিনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করে মির্জাপুরবাসি আজও কাঁদে। মির্জাপুরকে হানাদার মুক্ত করার জন্য ১৮ নভেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। ১২ ডিসেম্বর রাতে দেশমাতৃকার সূর্য-সন্তান বীরযোদ্ধারা মির্জাপুরের বংশাই, লৌহজং ও চতুর্দিকে পাকসেনাদের ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তুমুল সম্মুখ যুদ্ধ। আজাদ কামাল বীর প্রতীক, এম এ সবুর বীর প্রতীক ও রবিউল কমান্ডারের নেতৃত্বে ১৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় মির্জাপুর। প্রায় ৫শত মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকসেনাদের পরাজিত করে এবং পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা উড়িয়ে দেয় সবুজ জমিনের উপর লাল খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজউদ্দিন সিকদার বলেন, ১৩ ডিসেম্বর মির্জাপুরবাসির জন্য বেদনাবিধুর দিন। এ দিন মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্ময়ে হানাদার মুক্ত হয় মির্জাপুর। প্রতি বছরের মত এ বছরও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্ময় করে সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চত্তরে প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় মির্জাপুর। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষে উপজেলা প্রশসের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন চত্তরে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ব অর্জনে বীর শহীদদের স্মরণে পুষ্প স্তবক অর্পন, সন্ধায় প্রদীপ প্রজ্জলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে বরাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও কিশোর কিশোরীদের শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনামুলক সভা

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *