মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষশ্য বিরোধী জুলাই আন্দোলনরে ১৭ মাস পর দ্রুত বিচার আইনে নতুন গায়েবী মামলা হয়েছে। মামলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী ও লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল এবং সাবেক এমপি খান আহমেদ শুভ ও উপজেলা আওয়াীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহসহ ৪৪ জন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলায় অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে আরও ১৫০ জনকে। টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান মামলার বাদী মো. সুজন মিয়ার দায়ের করা মামলার আবেদন গ্রহণ করে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফআইআর গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ শনিবার মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এ বিষয়ে বলেন, কোর্ট বা আদালত থেকে ম্যাজিস্ট্রেট এর নির্দেশনার এখন পর্যন্ত কোন মামলার কপি হাতে পাওয়া যায়নি। মামলার কপি হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপর দিকে যিনি মামলার বাদী হয়েছেন তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোন নেতা নন এবং শ্রমিক দলের কোন সদস্য বা নেতা নন বলে আজ শনিবার গোড়াই ইউনিয়ন শ্রমিক দরের সভাপতি মো. আল মামুন নিশ্চিতত করেছেন। মো. সুজন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মির্জাপুরে ছিল না। সে কোনাবাড়ি ও মৌচাক এলাকায় ছিল। একন ভুয়া পরিচয় দিয়ে মির্জাপুরের নিরীহ লোকজনকে হয়রানী করার জন্য এ মামলা করেছে।
আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী হয়েছেন গোড়াই ইউনিয়নের ভানুয়াবহ উত্তরপাড়া গ্রামের হাসান আলীর পুত্র মো. সুজন মিয়া। গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান এর আদালতে আসামীদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনের নামে ২০০২ এর ৪/৫ তৎসহ দন্ডবিধি ১৪৩/১৪৭/৪৪৭/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৪ মামলার আবাদেন করেন। আবেদনে পেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার মির্জাপুর থানাকে মামলা রেকর্ডভুক্ত করার জন্য আদেশ দেন। আদেশ নং-০১, তারিখ-০১-০১-২০২৬ ইং। বাদীর এজাহার করা মামলায় আসামী করা হয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের টাঙ্গাইল-০৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ও লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল, টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর আসনের সাবেক দুই বারের এমপি খান আহমেদ শুভ, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত, সাবেক এমপি খান আহমেদ শুভর ব্যক্তিগত পিএস মীর আসিফ অনিক, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক বাইস চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম আজাহার, শামীম আল মামুন, গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ¦ হুমায়ুন কবীর, সালাউদ্দিন ভুইয়া ঠান্ডু, রাম প্রসাদ সরকারসহ ৪৪ জনকে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ১৫০ জনকে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল-০৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ও লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল বলেন, যিনি মামলার বাদী তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোন নেতা নন। আমি জানতে পেরেছি তিনি মির্জাপুর উপজেলার ১০ নম্বর গোড়াই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সদস্য পরিচয় দিয়ে মিথ্যা মামলা করেছেন। এর আগেও গায়েবী মামলার ভয়ভিতি দেখিয়ে তিনি ও তার বাবা এলাকার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মোটা াংকের টাকা আদায় করেছেন। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছি। আমি যাতে নির্বাচন করতে না পারি এ জন্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে আমার নামে মামলার আবেদন দিয়েছেন যার কোন ভিত্তি নেই।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী মো. সুজন মিয়ার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ০১৬৮৩-৬৫৬০৫৮ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেছি। মামলার ব্যবস্থা নেবেন আদালতের বিচারক ও থানা পুলিশ। এর চেয়ে আমি আর কিছু বলতে পারবোনা। এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।







