মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলেল মির্জাপুরে খোলা বাজারে ওএমএসের আটা-চাল সরবরাহ চার মাস মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে এলাকার শতশত অসহায় পরিবার চরম বিপাকে পরেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিলারের দোকানে আটা নিতে না পেয়ে ক্ষুব্দ হয়ে শতশত নিম্ন আয়ের অসহায় পরিবার ফিরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার ডিলারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ডিলারদের অভিযোগ গত চার মাস ধরে খাদ্য অধিদপ্তর ওম্সএসের আটা-চাল সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। কি কারনে সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন তা খাদ্য অফিসও সঠিক ভাবে কোন তথ্য জানেন না। ফলে শতশত অসহায় পরিবার আটা-চাল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার খাদ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় মির্জাপুরে খেলা বাজারে জন প্রতি ৫ কেজি করে আটা-চাল (প্রতি কেজি আটা-চাল ২৪ টাকা দরে ১২০ টাকা) নিম্ন আয়ের মানুসের মাধ্যে বিতরনের জন্য চার জন ডিলার নিয়োগ করেন। ডিলারগন হচ্ছেন পৌরসভার এক ও দুই নং ওয়ার্ডের জন্য শফিকুল ইসলামকে, চার ও পাঁচ নং ওয়ার্ডের জন্য আব্দুল মান্নানকে, ছয় ও সাত নং ওয়াডের জন্য মো. জাহিদ হোসেনকে এবং আট ও নয় নং ওয়ার্ডে সমির বণিককে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে একজন ডিলারকে প্রতি দিন ৫০০শ কেজি আটা খোলা বাজারে বিক্রির জন্য খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা হয়। কম মুল্যে আটা বিক্রির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে শতশত মানুষ ডিলারের দোকানে লাইনে ভিড় জমায়। সরকারের খাদ্য বান্ধবের এই উদ্যোগকে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ সাধুবাদ জানিয়ে ছিলেন। হঠাৎ করে গত চার মাস ধরে ওমএসএসের অধিনে আটা-চাল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পরেছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রতি দিন ডিলারদের দোকানে অসহায় মানুষ ভিড় করছেন। কিন্ত সরবরাহ না থাকায় ডিলারগন নারী পুরুষদের মাঝে আটা-চাল দিতে পারছেন না। কি কারনে সরবরাহ বন্ধ খাদ্য অফিস সঠিক ভাবে কোন তথ্য দিচ্ছেন না। ভুক্তভোগিদের মধ্যে লাল চান সুত্রধর, সোনা মিয়া ও পরি ভানুসহ অনেকেই বলেন, সরকারি ভাবে কমদামে আটা-চাল পেয়ে পরিবার নিয়ে কোন ভাবে চলতে পারতাম। এখন কমদামে আটা-চাল না পেয়ে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্ট হয়ে পরেছে। এই কার্যক্রম চালুর জন্য জোর দাবী জানান।
এ ব্যাপারে আজ শুক্রবার পৌরসভার ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সাহাপাড়া বাবু বাজারের ডিলার মেসার্স কালি মেডিকেল ট্রেডার্সের সমির বণিক বলেন, ২৪ টাকা কেজি দরে ওএমএসের আটা বিক্রি সরকারের একটি মহতী উদ্যোগ। প্রথমে ৫০০শ কেজি করে আটা সরবরাহ করা হলেও গত চার মাস ধরে সরবরাহ পুরোপরি বন্ধ রয়েছে। সরবরাহ না থাকায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আটা-চাল দেওয়া যাচ্ছে না। ডিলার সমির বণিকসহ অন্য ডিলারগন মির্জাপুরে ওএমএসের আটা-চাল সরবরাহ চালু রাখার জন্য জোর দাবী জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, সরকারি নির্দেশনায় উপজেলা পর্যায়ে ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে দুই তিন মাস নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে কম মুল্যে ওএমএসের আটা-চাল সরবরাহ করা হয়েছিল। ডিলারগন সপ্তাহে দুই দিন নিম্ন আয়ের দরিদ্রদের মাঝে ৫ কেজি হারে আটা-চাল বিক্রি করছেন। একন এই কার্যক্রম বন্ধ। শুধু জেলা পর্যায়ে যে সব এলাকা ঘনবসতি ঐ সব এলাকায় এই কার্যাক্রম চালু রয়েছে। সরকার উপজেলা পর্যায়ে এই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেন তবে পুনরায় উপজেলা পর্যায়ে এই কার্যক্রম চালু হবে।







