মির্জাপুরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ১৭৮৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮২৮ জন পরীক্ষার্থীই অনুপস্থিত

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইরে মির্জাপুরে ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ১৭৮৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮২৮ জন পরীক্ষার্থীই অনুস্থিত ছিল। অর্ধেকের মত পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুস্থিত নিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলায় ১৭০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৬৭৮ জন এবং বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন থেকে ১১০ জনসহ মোট ১৭৮৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের কথা ছিল। মির্জাপুর এস কে পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এই দুটি কেন্দ্রে ১৭৮৮ জনের মধ্যে মোট ৮২৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। বাংলা, গণিত, ইংরেজী এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ এবং বিশ^পরিচিতি এই চার বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ ১৬ বছর পর গত ১৫ এপ্রিল থেকে থেকে সারা দেশে একযোগে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এই বৃত্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বর মাসে। জাতীয় নির্বাচনসহ নানা কারনে এই পরীক্ষা বাতিল হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে নিয়মিত পাঠদান করছে। নতুন শিক্ষা বর্ষ শুরু হওয়ার প্রায় চার মাস পর আবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা গ্রণের সিদ্বান্ত ও রুটিন প্রকাশ হলে সচেতন মহল, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের অনিহা প্রকাশ করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন তাদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও তারা ব্যর্থ হন। ফলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেননি।
এ ব্যাপারে চার জন প্রধান শিক্ষক ও তিন জন সহকারি শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা পিছানোর ফলে কোমলমতি শিক্ষাথীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনে অনিহা প্রকাশ করে। ফলে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষা দেয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনসার উদ্দীন বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন ক্লাস্টারের সহকারি শিক্ষা অফিসার, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকগন শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য প্রচারনাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে ছিলেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অনিহা ও অসচেতনার কারনে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। তবে দুটি পরীক্ষা কেন্দ্রে চার বিষয়ের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ন পরিবেশে আজ শনিবার শেষ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে

    মির্জাপুরে বৃক্ষ রোপন ও জলবায়ুর পরিবর্তন অভিঘাত মোকাবেলায় মতবিনিময় সভা

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *