মির্জাপুরে যুবকদের ফাঁদে ফেলে নিউজিল্যান্ড পাঠানোর কথা বলে কোটি টাকা নিয়ে প্রতারক শওকত পলাতক

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
গ্রামের সহজ সরল যুবকদের মোটা বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে নিউজিল্যান্ড পাঠানোর কথা বলে প্রতারক চক্রের সদস্য মো. শওকত আলী খান (৫৫) কোটি টাকা নিয়ে পলাতক বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিটেমাটি বিক্রি করে প্রতারকের নিকট টাকা জমা দিয়ে বিদেশ যেতে না পেরে নিঃস্ব হয়ে দ্ধারে দ্ধারে ঘুরছে অসহায় পরিবারগুলো। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের বাদে হালালিয়া গ্রামে এ অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রতারনার শিকার ভুক্তভোগি পরিবারগুলো এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
ভুক্তভোগি পরিবার ও বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত টাঙ্গাইল সুত্রে জানা গেছে, মানব পাচারকারী চত্রের মুল হোতা হচ্ছে মির্জাপুর উপজেলার মহদীনগর গ্রামের মো. শামসুল হক খানের পুত্র প্রতারক মো. শওকত আলী খান। মামলার বাদী মো. নজরুল ইসলাম মল্লিক অভিযোগ করেন, প্রতারক ও মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য শওকত আলী খান তার পুত্র নাজমুল সাকিব মল্লিককে নিউজিল্যান্ড পাঠানোর কথা বলে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে ব্যাংকে চেকের মাধ্যমে ২৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তার ইটিসি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কোম্পানী আছে বলে তাদের জানায়। এরপর ট্রানজিট স্ট্রিপে নিউজিল্যান্ডে যাবে বলে তাকে জাল ভিসা ও পাসপোর্ট দিয়ে দেয়। মানবপাচারকারী শওকত আলী খান যুবক নাজমুলকে নিউজিল্যান্ড না নিয়ে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনাম নিয়ে প্রতারনার ফাঁদ ফেলে আরও দুই হাজার ডলার হাতিয়ে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে চম্পট দেয়। ভিয়েতনামে শওকতকে না পেয়ে কয়েক দিন বন্ধি অবস্থায় থেকে ফিরে আসে নাজমুল সাকিব। নাজমুলের মত পাইকপাড়া গ্রামের আকবর দেওয়ানের ছেলে রতন দেওয়ানের নিকট থেকে ২৩ লাখ, নারায়নগঞ্জের ফারুক হোসেনের নিকট থেকে ২৩ লাখ এবং বিভিন্ন এলাকার আরও অন্তত ৩-৪ জন যুবকের নিকট থেকে এভাবে কোটি টাকা নিয়ে শওকত এখন পলাতক বলে ভুক্তভোগি নজরুল ইসলাম জানায়। বিদেশ যেতে না পেরে অসহায় এই যুবকগুলো এবং তাদের পরিবার এখন নিঃস হয়ে দ্ধারে দ্ধারে ঘুরে মানবেতর জীবন যাবন করছে। ঋণে জর্জরিত পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন। প্রতারক শওকতের বাড়িতে গিয়েও ঘরবাড়ি তালাবদ্ধ বলে অসহায় পরিবারগুলো জানায়। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন প্রতারক শওকত সাধারণ লোকজনের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে তার মেয়েকে চীনে পাঠিয়েছে। এরপর থেকে তিনিও পলাতক।
এদিকে প্রতারক শওকত আলী খানকে গ্রেফতার ও টাকা উত্তোলনের জন্য আদালতে মামলা হলে তদন্ত প্রতিবেদনের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি (দক্ষিণ) টাঙ্গাইলকে। ডিবি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা আইনুল হক প্রতারকের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা পেয়ে প্রতিবেদন উল্টো দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী নজরুল ইসলাম। অসহায় পরিবারগুলো প্রতারক মানব পাচারকারী শওকতকে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং তিনি যাতে বিদেশে পালাতে না পারে সে জন্য স্বরাষ্টমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে মানব পাচারকারী ও প্রতারক মো. শওকত আলী খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পলাতক ও এলাকায় না থাকা এবং তার মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তবে এরাকার লোকজন অভিযোগ করেছে শওকত একজন প্রতারক এবং তার প্রতারনার ফাঁদে পরে বহুলোকজন নিঃস্ব হয়েছে।
এ ব্যাপারে ডিবি (দক্ষিণ) টাঙ্গাইলের তদন্তকারী কর্মকর্তা আইনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদেশে পাঠানোর নাম করে প্রতারক শওকত আলী খান এলাকার যুবকদের নিকট থেকে দুটি এজেন্সির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। তিনি একন পলাতক। তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে

    মির্জাপুরে বৃক্ষ রোপন ও জলবায়ুর পরিবর্তন অভিঘাত মোকাবেলায় মতবিনিময় সভা

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *