মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভয়াবহ লোড শেডিংয়ের কবলে পরেছে। এক দিকে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল সংকট অপর দিকে সেচের অভাবে পানির ভরা মৌসুমে মরে যাচ্ছে বোরো ধানের চারা। ভয়াবহ লোডশেডিং এবং তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে উঠেছে। দিন রাত মিলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮-২০ ঘন্টাই হচ্ছে লোডশেডিং। লোডশেডিং এর কবলে পরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে অতাধিক মিলকারখানায় উৎপাদন মারাত্বক বিপর্যয় নেমে এসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে এবং ভুক্তভোগি শিল্পের মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। মির্জাপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন গ্রিড থেকে উৎপাদন কম এবং প্রয়োজনীয় মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, টাঙ্গাইল গ্রীডে চাহিদা ১২০ মেগাওয়াট। তারা সরবরাহ পাচ্ছেন ৩৬ মেগাওয়াট। লোশেডিং হচ্ছে ৮৪ মেগাওয়াট যার শতকতা হার ৭০ শতাংশ। মির্জাপুর গ্রীডে চাহিদা ৬০ মেগাওয়াট। তারা সরবরাহ পাচ্ছেন ১৫ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হচ্ছে ৪৫ মেগাওয়াট। যার শতকরা হার ৭৫ শতাংশ। কবিরপুর গ্রীডে চাহিদা ২০ মেগাওয়াট, সরবরাহ পাচ্ছেন ০০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হচ্ছে ২০ মেগাওয়াট যার শতকরা হার ১০০ শতাংশ। ধামরাই গ্রীডে চাহিদা ৮ মেগাওয়াট, সরবরাহ পাচ্ছেন ০৬ মেগাওয়াট। শোডশেডিং হচ্ছে ০২ মেগাওয়াট যার শতকরা হার ২৫ শথাংশ। মাওনা গ্রীডে চাহিদা ০৫ মেগাওয়াট, সরবরাহ পাচ্ছেন ০৫ মেগাওয়াট। যার শতকরা হার ০০ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে টাঙ্গাইলে বিদ্যুদের মোট চাহিদা ২১০ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাচ্ছেন ৬২ মেগাওয়াট। লোড শেডিং হচ্ছে ১৫১ মেগাওয়াট যার শতকরা ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।
এদিকে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশিডিং এর ফলে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ছোট, বড় ও মাঝারি মিলে শতাধিক মিলকারখানায় উৎপাদন মারাত্বক বিপর্যয় নেমে এসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোড়াই এলাকায় কয়েকটি শিল্পের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কবলেন, মিলে উৎপাদন না থাকায় বিদেশী বায়ারদের অভার বাতিল হচ্ছে। অডার বাতিলের পাশাপাশি তেমনি বিপুল অংকের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে তারা ঋণে জর্জরিত হয়ে পরছে বলে ভুক্তভোগি মালিক ও কর্মকর্তাগন জানিয়েছেন। অপর দিকে মির্জাপুর পৌরসভা এবং ১৪ ইউনিয়নে ইরি-বোরা আবাদ নষ্ঠ হচ্ছে। কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, সেচের অভাবে ধানের চারা মরে যাচ্ছে। ভয়াবহ লোডশেডিং ও তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, সারা দেশের মত টাঙ্গাইলেও লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি লোডশেডিং কাটিয়ে উঠার জন্য। এছাড়া বিষয়টি তারা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছেন। লোডশেডিং কাটিয়ে উঠতে আরও একটু সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।







