মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটিতে পুতে রাখা বস্তাবন্ধি উদ্ধার হওয়া মা ও নবজাতকের লাশের সাত দিনেও কোন পরিচয় মিলেনি। ময়না তদন্তের পর মা ও নবজাতকের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। অপর দিকে টিকটকারসহ একটি গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মা ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার নিয়ে নানা মন্তব্য করে ফেইজবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলেছেন অন্তসত্তা গৃহবধুকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলেছেন, এটা গুজব ছাড়া বিছুই নয়। ময়না তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোন মন্তব্য করা যাচ্ছে না। গৃহবধুর পরিচয় সনাক্তের জন্য তারা নানা ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে ওসি তদন্ত রাসেদ আহমেদ জানিয়েছেন।
আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায়, গত সোমবার ( ২০ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে জামুর্কি ইউনিয়নের গুনটিয়া এলাকায় স্থানীয় লোকজন নদীর পাশে একটি গর্তের পাশে মহিলার চুল দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চুলের সুত্র ধরে পাশের একটি গর্ত খুড়ে বস্তাবন্ধি অবস্তায় মা ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের ধারনা দুবৃত্তরা মা ও নবজাতককে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য নদীর পাশে মাটিতে পুতে রেখেছিল। লাশ উদ্ধারের পর মির্জাপুর থানা পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করেন। ময়না তদন্ত শেষে গত গত বুধবার পুলিশ গৃহবধু ও নবজাতকের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে মির্জাপুর পৌরসভার বাইমহাটি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করেছেন। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে মা ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সাত দিন পার হলেও লাশের কোন পরিচয় মিলেনি। টিকটকার গ্রুপ ও একটি চক্র মন্তব্য করে পোস্ট দিয়েছে অন্তসত্তা গৃহবধুকে ধর্ষনের পর নবজাতকসহ হত্যা। এ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরেছে বিপাকে। পুলিশ বলেছেন ময়না তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এবং লাশের কোন পরিচয় না পাওয়া পর্যন্ত কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। রহস্য উৎঘাটানের জন্য তারা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানায়।
দুই নং জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডি এ মতিন বলেন, তার ইউনিয়ন পরিষদের একটু দুরে গত সোমবার মা ও নবজতকের লাশ উদ্ধার হয়। তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, লাশ উদ্ধার ও ময়না তদন্তের পর পরিচয় না পাওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করা হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলেই সঠিক কারন জানা যাবে। বিভিন্ন মাধ্যমে লাশের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।







