মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইরে মির্জাপুরে পরীক্ষার হলে নকলের মহোৎসব, বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৪ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিন ব্যাপি বাংলা, গণিত, ইংরেজী এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ এবং বিশ^পরিচিতি এই চার বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অব্যবস্ফনার কারনে ১৭৮৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮২৮ জন পরীক্ষার্থীই অনুস্থিত ছিল। উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যবস্থাপনা এবং কিছু শিক্ষক নেতাদের ক্ষমতার দাফটে পরীক্ষা হলে হয়েছে নকলের মহোৎসব। এ নিয়ে অভিভোবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পরলে শিক্ষা অফিসার মো. আনসার উদ্দীন নিজের দায় এড়ানোর জন্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত নিরীহ একজন প্রধান শিক্ষক এবং একজন সহকারি শিক্ষককে কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে অব্যহতিসহ কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এ তথ্য ফাঁস হলে শিক্ষক, অভিভাবক এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অপর দিকে অব্যবস্থাপনার কারনে অর্ধেকের মত পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলায় ১৭০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৬৭৮ জন এবং বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন থেকে ১১০ জনসহ মোট ১৭৮৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের কথা ছিল। মির্জাপুর এস কে পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এই দুটি কেন্দ্রে ১৭৮৮ জনের মধ্যে মোট ৮২৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। বাংলা, গণিত, ইংরেজী এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ এবং বিশ^পরিচিতি এই চার বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ ১৬ বছর পর গত ১৫ এপ্রিল থেকে থেকে সারা দেশে একযোগে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। নকল মুক্ত পরীক্ষা গ্রহণ মন্ত্রীর এই নির্দেশনা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ডিজি অফিসের কঠোর নির্দেশনার পরও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার দুই পরীক্ষা কেন্দ্রে নানা অনিয়ম দুর্নীতি এবং নকলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগি অসহায় অভিবাবক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে দুটি পরীক্ষা কেন্দ্রে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কয়েকজন শিক্ষক নেতার সন্তান বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় তাদের সন্তানদের বৃত্তি নিশ্চিত করার জন্য ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজেদের পছন্দমত হল সুপার ও কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ দিয়ে এবং বহিরাগতদের কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে খাতায় নকল লিখে দিয়েছেন বলে গুরুত্র অভিযোগ করেন। ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্দ অভিভাবকরা কেন্দ্রের বাহিরে বিক্ষোভ করেছে। অভিভাবকদের মধ্যে মো. আতিকুর রহমান, তিন জন প্রধান শিক্ষক ও চার জন সহকারি শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মির্জাপুর শিক্ষা অফিসে দীর্ঘ দিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। শিক্ষক নেতারা সাধারণ শিক্ষকদের জিম্মি করে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি, নকল ও অব্যবস্থাপনা করেচেন এই চক্রটি। প্রথম থেকেই বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছিল। কিন্ত শিক্ষক নেতাদের দাপটের কারনে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। ঘটনা জানাজানি হলে নিজের দায় এড়ানোর জন্য নিরীহ শিক্ষকদের উপর দায় চাপিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।
অপর দিকে বৃত্তি পরীক্ষার খাতা দেখা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। মির্জাপুরের খাতা কিশোরগঞ্জে এবং কিশোরগঞ্জের খাতা মির্জাপুরে এসেছে বলেও শিক্ষক নেতারা কারসাজির চেষ্টা করছেন। চক্রটি বিভিন্ন অভিভাবকদের অর্থের পলোভন দিয়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এনে দেওয়ার জন্য নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীসহ ডিজি অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজর দেওয়ার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন অভিভাবকমহল।
এদিকে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ ও নিজের দায় এড়ানোর জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মির্জাপুর এস কে পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শক বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ৈর সহকারি শিক্ষক ওসমান গণিকে কারন দর্শনোর নোটিশ ও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার এবং এবং মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের হলসুপার ভাওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সু-প্রিয়াকে কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনসার উদ্দীন বলেন, শিক্ষা অফিসার হিসেবে আমি নতুন যোগদান করেছি। বৃত্তি পরীক্ষার অব্যব্যবস্থা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ও এরাকাবাসির নিকট থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর দুইজন শিক্ষখকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দাবী করেন। অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।







