মির্জাপুরে সেই সাত ইটভাটায় আবার ইউএনও-এসিল্যান্ড-ওসির অভিযান

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সেই সাত ইটভাঁটায় ইউএনও এ বি এম আরিফুল ইসলাম, এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান এবং ওসি মো. মোশারফ হোসেন আবার অভিযান চালিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাতে তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ এবং ৯ জানুয়ারি ২০২৫ যৌথবাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এই সাত ইটভাটার চিমনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন এবং ২৪ লাখ টাকা জরিমানা ও ভাটা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ঐ সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা সালেহা সুমি। প্রশাসনের নির্দেশ আন্য করে আবার এই সাত ইটভাটায় বাংলা চিমনি স্থাপনের অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার রাতে প্রশাসন থেকে অভিযান চালিয়ে চিমনি স্থাপন বন্ধ করে দেন বলে ইউএনও এ বি এম আরিফুল ইসলাম রাতে জানিয়েছেন। গত ৯ জানুয়ারি পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেরা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাসুদুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিঞা মাহমুদুর হক, সহকারী পরিচালক সজিব কুমার ঘোষসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ,ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার বেলায়েত হোসেন ও গ্রাম পুলিশের সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুর ইসলাম ও এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে ছারপত্র ছাড়াই মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া এলাকায় আরবিসি ব্রিকস, এম এস বি ব্রিকস, বাটা ব্রিকস, এইচ ইউ বি ব্রিকস, নিউ রমিজ বিক্রজ, রান ব্রিকজ, গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা এলাকায় সনি ব্রিকস ও বাইমাইল এলাকায় বি এন্ড বি ব্রিকসসহ সাতটি ইটভাঁটা নির্মাণ করে ইট তৈরী ও পোড়ানো হচ্ছিল। গত ১২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত ছয় ইটভাঁটার অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা সালেহা সুমি প্রত্যেক ইটভাঁটার মালিককে চার লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। অবৈধ ভাঁটাগুলোর একাংশ ভেকু মেশিন দিয়ে ভেঙে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের মাধ্যমে পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়। পরে ওই ইটভাঁটাগুলোতে ইট প্রস্তুত ও পোড়ানো অনিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। এদিকে নির্দেশ অমান্য করে আবার তারা ইট প্রস্তুত করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার ৯ জানুয়ারি অভিযানে বাটা ব্রিকজ, নিউ সরকার ব্রিকজ, নিউ রমিজ ব্রিকজ, হক ব্রিকজ, বি এন্ড বি ব্রিকজ, সনি ব্রিকজ ও রান ব্রিকস এর চিমনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। নানা কৌশলে আবার তারা ইটভাটায় চিমনি স্থাপন করে ইট পোড়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। খবর পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে ১৪ বছরের কিশোরী ছেলেতে রুপান্তরিত এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি, উৎসুক জনতার ভিড়

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে গৃহবধুর এক সঙ্গে চার সন্তান প্রসব

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *