মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
মির্জাপুরে মাদরাসা পড়–য়া দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু(৯) ধর্ষণের ঘটনার প্রধান আসামী ধর্ষক ফিরোজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সকালে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হলে আদালতের বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার প্রধান আসামীকে পালাতে সহায়তা করায় এবং গ্রাম্য সালিশে প্রভাব বিস্তার করায় ধর্ষক ফিরোজ মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করে জেল হাজাতে পাঠায় পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে মেহেরপুর জেলার গাংনি থানার রামনগর গ্রামের ভুট্টাক্ষেত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার আজাগানা ইউনিয়নের একটি গ্রামে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে (৯) বড়ই পেরে দিবে বলে ফুসলিয়ে টয়লেটের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করে একই এলাকার ফিরোজ মিয়া (৫০)। ঘটনার এক সপ্তাহ পর স্থানীয় আব্দুল মালেক, বাবুল ও ফাজুসহ কয়েকজন গ্রাম্য মাতাব্বর এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিশ করেন। সালিশে ধর্ষককে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে গত ৮ মার্চ মির্জাপুর থানা পুলিশ শিশু এবং তার মাক পুলিশি হেফাজতে নেন। পরে এ বিষয়ে ঘটনার ১৯ দিন পর ৮ মার্চ রাতে শিশুটির মা পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের খবর পেয়ে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ আসামীদের ধরতে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করতে থাকে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ধর্ষককে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করেন। ধর্ষকের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তিনি বলেন, ধর্ষককে ধরিয়ে দিতে যদি কেউ পুলিশকে সহায়তা করে থাকে তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামী ধর্ষক ফিরোজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ফিরোজ মিয়াকে রোববার ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক রুমি খাতুন ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রোববারই ফিরোজ মিয়াকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরির্শক (এসআই) রাহাদুজ্জামান আকন্দ জানিয়েছেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন শিশু ধর্ষণের ঘটনার প্রধান আসামী ফিরোজ মিয়াকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়া মাতাব্বরদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যহত রযেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।







