মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ মাটি চুরি। নির্বিচারে কাটা হচ্ছে তিন ফসলি জমি, নদীর মাটি ও পাহাড়ের লাল মাটির টিলা। এভাবে মাটি কাটায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এই চক্রের হাতে অসহায় হয়ে পরেছে প্রশাসন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনে রাতে উপজেলার, গোড়াই, তরফপুর, লতিফপুর, বাঁশতৈল ও আজগানা এলাকায় পাহাড়ের টিলা ও লাল মাটি কেটে নেওয়ায় এলাকায় হুমকির মুখে পরেছে জীববৈচিত্র। একই ভাবে নদী, ফসলি জমি থেকেও অবৈধ ভাবে মাটি কাটায় এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে। আজ শুক্রবার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত ৫০ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছেন বলে ভ্রাম্যান আদালনের এক্্িরকিউটিভ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন।
মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মির্জাপুরে অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটা ও নদী থেকে মাটি চুরির মহোৎসব চলছে দীর্ঘ দিন দরে। উপজেলার পাহাড়ি পাঁচ ইউনিয়নসহ অপর ৯ ইউনিয়নেই চলছে চুরি করে মাটি কাটার মহোৎসব। ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি কেটে বহন করে নেওয়ায় এলাকার রাস্তাঘাটের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ হুমকির মুখে। দিন রাত অভিযানের পরও মাটি প্রভাবশালী এই চক্রের হাতে অসহায় হয়ে পরেছে প্রশাসন। উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল আজগানা, লতিফপুর, তরফপুর, গোড়াই ও বাঁশতৈল এই পাঁচ ইউনিয়নের পাহাড়ের টিলার লাল মাটি চুরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মাটি কাটা হচ্ছে উপজেলার নয়াপাড়া, হাটুভাঙ্গা, সৈয়দপুর, আজগানা, গোড়াই, সোহাগপাড়া, কোদালিয়া, দেওহাটা, মীর দেওহাটা, লতিফপুর, পাথরঘাটা, বহুরিয়া, বাইমহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায়। মৌসুমের শুরু থেকেই পাহাড় ও নদীর মাটি কাটা হচ্ছে। রাতের আধাঁরে এই মাটি কাটায় এলাকার কাঁচা আধাপাকা রাস্তা ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাহাড়ের লাল মাটি কাটায় এক দিকে জীব বৈচিত্র ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি ভাবে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আজগানা, লতিফপুর, তরফপুর, গোড়াই ও বাঁশতৈল পাহাড়ি এলাকার অসহায় ভুক্তভোগি ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেট চক্র আজগানা, লতিফপুর, তরফপুর, গোড়াই ও বাঁশতৈল এলাকার অসহায় লোকজনকে জিম্মি করে জোর পুর্বক পাহাড়ের লাল মাটির টিলা ও ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। মাটি কাটা বন্ধের জন্য কেউ বাঁধা দিলে তাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি এবং মামলার ভয় দেখানো হয়। সন্ধার নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় পাহাড় কাটার মহোৎসব। প্রতি রাতে শতাধিক ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ায় এলাকার রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একই ভাবে মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রটি উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীর মাটিও কেটে নিচ্ছে। ৩০-৪০ স্পটে চলছে মাটি চুরির মহোৎসব। ফলে সরকার বিপুল পরিমান সরকারী রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় থেকে ভুক্তভোগিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম, এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান, ওসি মো. মোশারফ হোসেন এবং সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পৃথক অভিযান চালিয়ে ২১ লাখ টাকা অর্থদন্ড করেছেন। ফতেপুর, মহেড়া, লতিফপুর, বহুরিয়া ও ভাওড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমরান পারভেজ ও মনির হোসেন নামে মাটি চোরকে আটক করে প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং লেবু মিয়া নামে একজন ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। এর আগে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৪০ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছেন। গত দুই মাসের ব্যবধানে অভিযানে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ ড্রাম ট্রাক ও ভ্যেকু জব্দ করে অর্ধশত মামলা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্্িরকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট এ বি এম আরিফুল ইসলাম এবং এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটি বহন করার ট্রাক জব্দ করে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। যারা এই মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত তাদের কোন অবস্থায় ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান চলমান থাকবে এবং আরও কঠোর ভাবে পরিচালনা করা হবে বলে তারা উল্লেখ করেন।







