মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
বাবা মায়ের শেষ ইচ্চা (স্বপ্ন) পুরনে হেলিকপ্টারে নিয়ে বর এসেছিলেন কনের বাড়িতে। বর সিংগাপুরে একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীতে ইঞ্চিনিয়ার। আর কনে টাঙ্গাইল কুমুদিনী সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রী। বর যখন হেলিকপ্টার নিয়ে কনের বাড়ির সামনে মাঠে অবতরন করেন, তখন কনের বাবা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বরকে বরণ করতে ব্যস্ত ছিলেন। এ যেন এক অন্যরকম উৎসব মুখর পরিবেশ ছিল। গ্রামের শতশত নারী পুরুষ ও ছোট ছোট ছেলে মেয়ে একনজর হেলিকপ্টার দেখার জন্য ভিড় জমায়। আজ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশীনগর গ্রামে এ বিয়ের আয়োজন ছিল।
জানা গেছে কনে ইভা আক্তারের পিতার নাম মো. ফজলু মিয়া। গ্রামরে বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার বংশীনগর গ্রামে। ইভা টাঙ্গাইল কুমুদিনী সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রী। অপর দিকে বরের নাম মো. মাহমুদুল হাসান মুরাদ। পিতার নাম আসাদুজ্জামান। গ্রামের বাড়ি নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা গ্রামে। তিন ভাইয়ের মধ্যে মুরাদ সবার ছোট। মাহমুদুল হাসান মুরাদ সিংগাপুরে একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি ছুটিতে দেশে এসেছেন। তার বাবা মায়ের শেষ ইচ্ছা ছেলেকে হেলিকপ্টারে উঠিয়ে বিয়ে করাবে। বাবা মায়ের আবদার রাখতেই হেলিকপ্টারে কনে নিয়ে বাড়ি যাবে বলে বাবা মাকে জানায়। শেষ পর্যন্ত এক লাখ ৬৫ হাজার টাকায় হেলিকম্টার ভাড়া করে। হেলিকপ্টার ছাড়াও ১৫-২০ টি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে তিন শতাধিক বরযাত্রী নিয়ে আসে।
অপর দিকে কনে ইভা আক্তারে পিতা ফজলু মিয়া ও চাচা কলেজ শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, লেখাপড়ায় ইভা অত্যান্ত মেধাবী। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। বরে হেলিকপ্টারে আসবেন জেনে আমরা গ্রামের মাঠ সাজিয়ে রেখেছিলাম। ভাড়া করেছিলাম বাদ্যযন্ত্র (ব্যানপার্টি)। বরকে বরন করতে কোন কমতি ছিল না। ভাল বর পেয়ে আমরাও গর্বিত।
এ ব্যাপারে বর মাহমুদুল হাসান মুরাদ ও কনে ইভা আক্তার বলেন, দুই পরিবারের ইচ্ছায় হেলিকপ্টারে বিয়ের আয়োজন করায় আমরাও খুঁশি। সারাটা জীবন এভাবেই যেন দুই পরিবারের মধ্যে হাঁসি খুঁশিতে জীবন কাটাতে পারি।







