মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
বিয়ে বাড়িতে কনে ও তার পরিবারের সঙ্গে প্রতারনা করায় বরকে গনধোলাই দিয়ে রশিতে বেঁধে শরীর থেকে শেরওয়ানী খুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিয়ের পরিবর্তে গ্রাম্য শালিসে কনে ও তার পরিবারের ক্ষতিপুরন বাবদ বরকে ৯ লাখ টাকা জরিমানা করে বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার (২ এপ্রিল ) টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়নের কটামারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি এখন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার এলাকাবাসি জানায়, বর শরীফ মাহমুদ সাবেক ছাত্রলীগের নেতা। তার পিতার নাম সাইফুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের উত্তর পেকুয়া গ্রামে। বরের বাবা পেশায় একজন ব্যবসায়ী। অপর দিকে কনে শিলা আক্তারের পিতার নাম মো. আশরাফুল ইসলাম আকতার। গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের কটামারা গ্রামে। গত এক বছর পুর্বে কনের সঙ্গে ৬ লাখ টাকায় কাবিন হয় বর শরীফ মাহমুদের। গত এক বছর ধরেই বিয়ে নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে টানাপোরন সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক শালিস ভৈঠকও হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এলাকার মাতাব্বরদের অনুরোধে কনের পরিবারকে রাজি করে বিয়ের তারিখ ঠিক হয়। গত ১ এপ্রিল মঙ্গলবার ছিল গায়ে হলুদ এবং গতকাল ২ এপ্রিল বুধবার ছিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। কনের পরিবার বাড়িতে সাজ সজ্জা করে গরু, খাঁসি জবাই করে সামিয়ানা প্যান্ডেল সাজিয়ে এবং আত্বীয় স্বজন দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। দুপুরে বর পক্ষ আত্বীয়-স্বজন নিয়ে কনের বাড়িতেও হাজির হন। কনে পক্ষের অভিযোগ করেন বিয়ে বানচাল করার জন্য বাঁধ সাজে বর শরীফ মাহমুদ। তার দুই বন্ধুকে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে প্রচার চালায় কন্যার বয়স কম। এ বিয়ে হবে না। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে হৈ-চৈ। এক পযায়ে কনে পক্ষ বাড়িতে আত্বীয় স্বজনদের খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়ে বরকে গণধোরাই দিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। বরের শরীর থেকে শেরওয়ানী খুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বরের সঙ্গে আসা লোকজনদের আটক করে।
এদিকে খবর পেয়ে এলাকার বিএনপির নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে মাতাব্বরগন শালিসের আয়োজন করে। শালিসে কনের কাবিন বাবদ ৬ লাখ টাকা এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বাবদ ৩ লাখ টাকাসহ মোট ৯ লাখ টাকা বরকে জরিমনা করা হয়। পরে টাকা পরিশোধের জন্য কয়েক দিন সময় নিয়ে মুচেলিকা দিয়ে বর ও তার পরিবার ছাড় পেয়েছেন। শালিসে ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মান্নান খান আকাশ, বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আজাহারুল ইসলাম আজাহার ও সাধারন সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদসহ কয়েক শতাধিক মাতাব্বর উপসিন্থত ছিলেন।
এ ব্যাপারে বর শরীফ মাহমুদ ও তার পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কনে পক্ষ অন্যায় ভাবে ও মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিয়ে বানচাল করে দিয়েছে। শালিসে তাদের জোর পুর্বক ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ হেলাল উদ্দিন দেওয়ান বলেন, কটামারা গ্রামে বর ও কনের মধ্যে বিয়ে নিয়ে গতকাল বুধবার সমস্যা হয়েছিল। অসুস্থ্যতার কারনে তিনি শালিসে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে ইউপি মেম্বারের উপস্থিতিতে গ্রাম্য শালিসে মাতাব্বরগন বর পক্ষকে কনের ক্ষতিপুরন বাবদ ৯ লাখ টাকা জরিমানা করে ঘটনার মিমাংশা করেছেন।







