মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই হাজার দুঃস্থ্য নারী পুরুষ এবং পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদকের মাঝে ঈদের উপহার হিসেবে শাড়ি-লুঙ্গি-পাঞ্জাবি বিতরণ করেছেন সাবেক চার বারের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একাব্বর হোসেনের পুত্র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত। আজ বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) মির্জাপুর শহরের সাবেক এমপির বাস ভবনে দুই হাজার দুঃস্থ্য নারী পুরুষ এবং পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ঈদের উপহার হিসেবে শাড়ি-লুঙ্গি-পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়। এর আগে বিভিন্ন এরাকায় ঘুরে খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করেছেণ তিনি। এ সময় ব্যারিষ্টার মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ব্যারিষ্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক দুর্লভ বিশ^াস, লতিফপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ হুমায়ুন কবীর এবং টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সাইদুর রহমান খান বাবুল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মির্জাপুর পৌরসভা এবং ১৪ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে ব্যারিষ্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত পৌরসভা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি সম্পাদকদের উদ্যেশে বলেন, আমার বাবা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন ছিলেন চার বারের এমপি। আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে তিনি আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে দলকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। আমার বাবা বিভিন্ন ঈদসহ নানা অনুষ্ঠানে লোকজনকে সহযোগিতা করেছেন। আমি আমার বাবার ধারাবাহিকতা অব্যহৃত রাখতে চাই। আগামীতে আপনারা আমার পাশে থাকবেন এটাই প্রত্যাশা।
মির্জাপুরে ঈদে দলীয় নেতাকর্মীসহ দুই হাজার পরিবারকে শাড়ি-লুঙ্গি-পাঞ্জাবি উপহার দিলেন ব্যারিষ্টার সীমান্ত
মির্জাপুরে বৃষ্টির জন্য মুসুল্লিদের নফল নামাজ আদায়
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে খরতাপে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। আবহাওয়া অফিস সুত্র জানিয়েছেন টাঙ্গাইলে আজ তাপমাত্রা ছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রায় এক মাস হলো বৃষ্টির দেখা নেই। এক দিকে প্রখর রোদ অপর দিকে তীব্র গরমে ঘর থেকে বের হওয়া দুষ্কর হয়ে পরেছে। খরতাপ থেকে রক্ষা ও বৃষ্টির জন্য ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিগন প্রখর রোদের মাঠে নফল নামাজ আদায় করে দোয়া করেছেন। আজ মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বাদ জোহর গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সোহাগপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাঠে এ নফল নামাজ আদায় করা হয়। বিভিন্ন এলাকার কয়েক শতাধিক মুসুল্লি বৃষ্টির জন্য নফল নামাজের জামায়াতে অংশ নেন। নফল নামাজ শেষে দোয়া পরিচালনা করেন সোহাগপুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মোতাকসিল বিল্লাহ আতিকি।
বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে গরমের প্রখরতার চিত্র। প্রখর রোদের মধ্যে বাতাস না থাকায় গরমের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। গরমের তীব্রতা থেকে একটু স্বস্তির পরশ পেতে মানুষের পাশাপাশি গবাদী পশুও হাপিয়ে উঠেছে। উত্তরাঞ্চল থেকে কাজের সন্ধানে আসা নিম্ন আয়ের মানুষ পরেছেন চরম বিপাকে। প্রখর রোদের মধ্যে তারা কাজ করতে পারছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেশ কিছু দিন ধরে তীব্র গরমের কারনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বিভিন্ন রোগ। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় সুধীজনের সম্মানে ইফতার মাহফিল
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিমের উদ্যোগে সুধীজনের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৭ এপ্রিল) মির্জাপুর থানা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়। সুধীজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান , সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর-নাগরপুর) সার্কেল এ এস এম আবু মনসুর মুসা, শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাহমিনা জাহান, মির্জাপুর পৌরসভা, বিভিন্ন রাজনীতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যমকর্মীগন উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের পুর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মির্জাপুর থানা মসজিদের পেশ ইমাম হযরত মাওলানা হাফেজ কারী মো. ফুরদ হোসাইন।
মির্জাপুরে উপজেলা কৃষকদলের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল উপজেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৭ এপ্রিল) মির্জাপুর উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মহসীন হলের সাবেক জিএস মো. সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব। কৃষকদল মির্জাপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম মৃধার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. আলী আযম খান উথ্থানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রধান অতিথি মো. সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব, মির্জাপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ভিপি মো. হযরত আলী মিঞা, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মো. সাদেক আহম্মেদ খান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. ফিরোজ হায়দার খান, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দিপু হায়দার খান, টাঙ্গাইল জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সদস্য সচিব শামীমুর রহমান খান শামীম ও বিএনপি নেতা হাজী সোহরাব হোসেন প্রমুখ।
মির্জাপুরে দুটি বিদেশী পিস্তল ও বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্্রসহ প্রবাসি গ্রেফতার
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুটি বিদেশী পিস্তল এবং বিপুর সংখ্যক দেশীয় অস্্রসহ আরজু মিয়া (৪৫) নামে এক প্রবাসিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের স্বল্প মহেড়া গ্রামে আরজু মিয়ার বাড়ি। তার পিতার পিতার নাম মো. মজিবর রহমান। গতকাল শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাতে তার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পিস্তল ও অস্্রসহ গ্রেফতার করা হয় বলে মির্জাপুর থানার থানার পুলিশ অফিসার মো. আবুর বাশার মোল্লা জানিয়েছেন।
আজ শনিবার (১৫ এপ্রিল) মির্জাপুর থানার পুলিশ অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, আরজু মিয়া দীর্ঘ দিন কোরিয়া এবং পরে সৌদি আরব ছিলেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে চলে আসেন। গতকাল শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ আরজু মিয়ার বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় আরজু মিয়ার ঘরে ব্রিফকেসে লোকানো দুটি বিদেশী পিস্তল, তিটি ম্যাগজিন, চাপাতি, ছুরি, রাম দাসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্্র উদ্ধার করা হয়। কি উদ্যেশে তিনি পিস্তল ও দেশীয় অস্্র এনেছিলেন এ বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। ঘটনার পর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর-নাগরপুর সার্কেল) এ এস এম আবু মনসুর মুসা, মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সারেহ মাসুদ করিম, ওসি (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। থানায় প্রচলিত আ্টেিন মামলার পর আরজু মিয়াকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে কোর্টে নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, থানায় মামলা হয়েছে। রিমান্ডের আবেকদন করে আসামীকে কোর্টে নেওয়া হয়েছে।
মির্জাপুরে দুটি পিস্তলসহ সৌদি প্রবাসী গ্রেফতার
মো.সাজজাত হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুটি বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ আরজু মিয়া(৫০)নামে একজন সৌদি প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে মির্জাপুর থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিক্তিতে মির্জাপুর থানা পুলিশ উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের স্বল্প মহেড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। আরজু মিয়া স্বল্প মহেড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি প্রবাসী।
মির্জাপুর থানা পুলিশ জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক(এস আই)মো.আবুল বাশার মোল্লার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিক্তিতে স্বল্প মহেড়া গ্রামের মজিবর রহমানের বাড়ীতে অভিযান চালান। আরজু মিয়ার বসত ঘর তল্লাসী চালিয়ে ইতালির তৈরি দুটি পিস্তল,তিনটি ম্যাগজিন,চার রাউন্ড তাজা গুলি,রাম দা, দুটি চাপাতিসহ আরজু মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, আরজু মিয়ার বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় অস্ত্র মামলা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মির্জাপুরে সাপ্তাহিক বারবেলা-মাসিক চন্দ্রবিন্দু-দৈনিক নিউজ এর ইফতার
মো.সাজজাত হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার
মির্জাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে শুক্রবার সাপ্তাহিক বারবেলা-মাসিক চন্দ্রবিন্দু-দৈনিক নিউজ এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও মির্জাপুর কলেজের সাবেক ভিপি মো. আবু আহমেদ। সাপ্তাহিক বারবেলা- মাসিক চন্দ্রবিন্দু- দৈনিক নিউজ এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ হোসনি জুবাইরি এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি মো. আবু আহমেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ -সভাপতি মোহম্মদ আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি ও মির্জাপুর কলেজের সাবেক ভিপি মো. হযরত আলী মিঞা, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম, মির্জাপুর রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাক ও মোহনা টিভি প্রতিনিধি মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, সাপ্তাহিক বারবেলার নির্বাহী সম্পাদক আশরাফ আহমেদ প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, র্মির্জাপুর রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারন সম্পাদক ও এশিয়ান টিভি প্রতিনিধি নাজমুল ইসলাম, দৈনিক কালের কন্ঠ প্রতিনিধি এরশাদ মিয়া, দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি মো.সাজজাত হোসেন, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হুমায়ুন কবির, যাদুশিল্পী জহির আহমেদ, সাংবাদিক রাব্বি ইসলাম, শমিম মিয়া, রুবেল আহমেদসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ইফতার মাহফিলে দোয়া পরিচালনা করেন মির্জাপুর থানা জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলনা কারী মো. ফরিদ হোসাইন।
মির্জাপুরে সরকারী পুকুর মাটি ভরাটের অভিযোগে এবাদত মৃধাকে লাখ টাকা জরিমানা
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাতের আধাঁরে সরকারী খাস পুকুরে মাটি ভরাটের অভিযোগ এবাদত মৃধা নামে এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা মুচলিকা নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৩ এপ্রিল) রাতে মির্জাপুর পৌরসভার বাইপাস বাওয়ারকুমারজানি এলাকায় সরকারী খাস পুকুরে অভিযান চালিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবাদত মৃধাকে আটক করে এ জরিমানা করেন।
আজ শুক্রবার উপজেলা ভূমি অফিস সুত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন বাইপাস বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় বিশাল সরকারী খাস পুকুর রয়েছে। গতকাল রাতে স্থানীয় একটি চক্র এবাদত মৃধার যোগ সাজসে পুকুরে মাটি ভরাট করতে থাকেন। খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে এবাদত মৃধাকে আটক করে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। সে যেন এই কাজ আর না করেন সে জন্য মুচলিকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকারী কোন সম্পত্তি কেউ যাতে অবৈধ ভাবে দখল করতে না পারে সে জন্য তাদের মোবাইল কোর্টের অভিযান চলমান থাকবে।
মির্জাপুরে জনবান্ধব ইউএনও হাফিজুরের প্রচেষ্টায় একযোগে নির্মান হলো ৩১টি শহীদ মিনার ও একটি কলেজ
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জনবান্ধব নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমানের একক প্রচেষ্টায় ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে একযোগে ৩১টি শহীদ মিনার নির্মাণ করে বৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ও অর্থায়ন এবং উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের কারিগরী সহায়তায় শহীদ মিনার নির্মান কাজের বাস্তবায়ন করা হয় বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন। ৩১ টি শহীদ মিনার নির্মানে ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।
এছাড়া পৌরসভার পুরাতন বাস স্টেশনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মান, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরণে উপজেলা পরিষদ চত্বরে “অর্জন” নামে একটি ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের নয়াপাড়ায় “মুক্তির পথ” নামে একটি দৃষ্টি নন্দন স্মৃতি সৌধ নির্মিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ৩১ টি শহীদ মিনারের মধ্যে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মির্জাপুর সরকারি এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, দেওহাটা আলহাজ¦ জোনাব আলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, জামুর্কী এনএসএজি উচ্চ বিদ্যালয়, বানাইল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর, আনাইতারা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর, সিয়াম একাডেমি চত্বর, হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কোদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুড়িপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, অভিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর, গায়রাবেতিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরতকিচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এডিএম উচ্চ বিদ্যালয়, বহুরিয়া ইউনিয়নের দিঘলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিবিএ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুইচতারা এম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর, ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর, ছাওয়ালী ভাতকুড়া এম কে এবি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বানাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তরফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝোপবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলমান আছে যা অতিসত্বর সম্পন্ন হবে। এছাড়াও আজগানা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুরালের কাজ চলমান রয়েছে। আজগানা ও উয়ার্শী ইউনিয়নে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিফলক নির্মাণ কাজও চলমান রয়েছে।
মির্জাপুর পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে মির্জাপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নির্মাণ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। খান আহমেদ শুভ এমপির অর্থায়নে নির্মিত এই শহীদ মিনারের সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আরিফুর রহমান। নির্মান ব্যয় হয়েছে ৩১ লাখ টাকা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, আমার মনে হয়েছে এ উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা শহীদদের স্মরণে স্মৃতি সৌধ ও শহীদ মিনার নির্মাণ আবশ্যক। আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেয়েছি। আর এসব কারণেই মির্জাপুর আমার চাকুরিজীবনে অন্যতম স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা এড. মোশারফ হোসেন মনি বলেন, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তামো. হাফিজুর রহমান একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা। তিনি মির্জাপুরে যোগদানের পর আমুল পরিবর্তন হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি চেয়ার এবং রেমিট্যান্ট যোদ্ধাদের জন্য অফিসে চেয়ারের ব্যবস্থা করেছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও শহীদ মিনার স্থাপন করে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর পৌরসভা মেয়র সালমা আক্তার বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান একজন মহৎ মনের মানুষ। তিনি ন্যায়, নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে জনসেবা করে থাকেন। শহীদ মিনার নির্মানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন স্কুল এন্ড কলেজ গড়ে তোলেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ করে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়েছেন।
এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্তায়ী কমিটির সদস্য খান আহমেদ শুভ এমপি বলেন, একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়ে এতটা নিষ্ঠা, সততা, আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে পারেন, ইউএনও হাফিজুর রহমান তার উদাহারন। তিনি মির্জাপুরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত স্থানগুলোতে ৩১ টি শহীদ মিনার নির্মান করে একটি মহৎ কাজ করেছেন।
মির্জাপুরে উৎসব মুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন এবং উৎসব মুখর পরিবেশে বাঙ্গালীর প্রাণের ছোয়া বাংলা নববর্ষ উদযাপন হয়েছে। এ উপলক্ষে বেলা এগাটায় উপজেলা প্রশাসন মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে। মঙ্গল শোভাযাত্রাটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে গিয়ে শেষ হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার পুর্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক, শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাহমিনা জাহান, মির্জাপুর এস কে পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম খান, মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান উদ্দিন, দেওহাটা এ জে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান, মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম, ওসি (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রবীর কুমার চৌধূরীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
অপর দিকে বরাটী নরদানা বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়, দেওহাটা এ জে উচ্চ বিদ্যালয়, হাড়িয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসব মুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ পালিত হয়েছে।

